প্রধান সূচি

চন্ডিপুরে গণহত্যা দিবস পালিত || ৪৭ বছরেও নির্মিত হয়নি স্মৃতিসৌধ

 

ইন্দুরকানী প্রতিনিধি :

বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে ৬ মে চন্ডিপুর ৪৬তম গণহত্যা দিবস পালিত হয়েছে। শনিবার ইন্দুরকানী ও মোড়েলগঞ্জ উপজেলার সীমানায় বলেশ্বর নদের পশ্চিম তীরে গণহত্যা দিবস উপলক্ষে স্থানীয় দিবস উৎযাপন কমিটির উদ্যোগে শহীদদের স্মৃতিতে মাল্যদান, র‌্যালী, শহীদ স্মরণে আলোচনা, মেলা ও কীর্ত্তণ অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার লোক এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে এক মিলন মেলায় পরিনত হয়।

১৯৭১ সালের এই দিনে পিরোজপুর জেলার ইন্দুরকানী উপজেলার ২ কিলোমিটার দূরে বলেশ্বর নদীর তীরে হিন্দু অধ্যুষিত পুর্ব চন্ডিপুর এলাকায় পাক বাহিনী সশস্ত্র হামলা করে কবি, সাহিত্যিক, ইঞ্জিনিয়ার, নাট্যকার, শিক্ষকসহ শতাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং ৪৬৫টি ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সেই ধ্বংসযজ্ঞ আজও কাটিয়ে উঠতে পারেনি এলাকাবাসী। এই দিনটি পালনের জন্য স্থানীয় উদ্যোগে পুর্ব চন্ডিপুরের বিপিন চাঁদ ও দেবেন চাঁদ তিরোধান দিবস উপলক্ষে মন্দির শহীদ স্মৃতি স্তম্ভে দিনব্যাপি নানা কর্মসূচী গ্রহণ করে।

স্বাধীনতা যুদ্ধের ৪৭ বছর পার হলেও গনহত্যার স্থানে আজও নির্মাণ করা হয়নি কোন স্মৃতি সৌধ। স্থানীয়রা শহীদদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য নিজেদের উদ্যোগে ছোট একটি শহীদ মিনার নির্মান করলেও সরকারী উদ্যোগে কোন স্মৃতি সৌধ নির্মাণ করা হয়নি।

এ বিষয়ের ঐ এলাকার গনহত্যা দিবস পালন কমিটির সভাপতি বাবু সুনীল কুমার মজুমদার জানান, ১৯৭১ সালের ৬ মে সকাল ৮ টায় পিরোজপুর থেকে সশস্ত্র পাক বাহিনী পূর্ব চন্ডিপুর গ্রামে হামলা চালিয়ে সাধু দেবেন্দ্র নাথ হালদার, শিক্ষক দীনেশ মজুমদার, সতীষ চন্দ্র মন্ডল, নির্মল চন্দ্র, নাট্যকার ধীরেন্দ্র নাথ, উপেন্দ্রনাথ, ইঞ্জিনিয়ার বিমল হালদার, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্মল রায়সহ শতাধিক হিন্দুদের গুলি করে হত্যা করে এবং এই এলাকায় হিন্দু সমাজের ৪৬৫ ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত এই ধ্বংসযজ্ঞ চলে। তখন অনেকেই ভয়ে পালিয়ে পত্তাশী ইউনিয়নে আশ্রয় নেয়। এলাকাবাসীর দাবী শহীদদের স্মৃতি রক্ষায় গণহত্যা এলাকায় একটি স্মৃতি সৌধ নির্মাণ। প্রতি বছর ৬ মে দিনব্যাপি ব্যাপক অনুষ্ঠানে হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সাথে এলাকার সর্বশ্রেণীর মানুষ অংশ গ্রহণ করেন। হিন্দু ভক্তদের পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠে শ্রী শ্রী গুরু বিপিন চাঁদ মন্দির ও শহীদ স্মৃতি স্তম্ভ।

স্থানীয় ইউপি সদস্য রফিকুল ইসলাম শিল্পী জানান, গণহত্যায় নিহতদের স্মরণে একটি স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণ করা প্রয়োজন। সরকারি উদ্যোগে স্মৃতি স্তম্ভ নির্মাণের জন্য চেষ্টা করা হচ্ছে।

চন্ডিপুর গ্রামের বাসিন্দা মুক্তিযোদ্ধা মোঃ ফরিদুল ইসলাম খান জানান, ১৯৭১ সালের ৬ মে রাজাকারের সহায়তায় পাক হানাদার বাহিনী পিরোজপুর সদর থেকে  ৮ কিলোমিটার দূরে বলেশ্বর নদের পশ্চিম তীরে হিন্দু অধ্যুষিত চন্ডিপুর গ্রামে নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে শতাধিক লোককে গুলি করে হত্যা করে এবং ৪৬৫ ঘর আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয়। কিন্তু আজও গনহত্যা স্থানে নির্মাণ হয়নি শহীদ স্মৃতি সৌধ।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial