প্রধান সূচি

সুন্দরবনের চোরাই কাঠ আটকের জের || স্বরূপকাঠীতে বন কর্মকর্তা লাঞ্ছিত

 

ষ্টাফ রিপোর্টার :

সুন্দরবনের চোরাই কাঠ আটকের ঘটনা নিয়ে স্বরূপকাঠী (নেছারাবাদ) উপজেলা বন কর্মকর্তাকে প্রাননাশের হুমকিসহ দৈহিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা যায়, এক মাস আগে জেলার স্বরূপকাঠী উপজেলায় বন বিভাগ কর্তৃক সুন্দরীকাঠসহ সুন্দরবনের অবৈধ বনজ সম্পদ আটক করায় স্থানীয় কাঠ পাঁচারকারী সিন্ডিকেটের মদদে বৃহস্পতিবার স্থানীয় প্রভাবশালীরা এ ঘটনা ঘটায়।

ভুক্তভোগী স্বরূপকাঠী উপজেলার বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করে জানান, গত ৭ এপ্রিল কোষ্টগার্ড সদস্যদের সহায়তায় উপজেলার কৌড়িখাড়া বিসিক এলাকার খালে গোলপাতাবাহী একটি নৌকা সন্দেহ হলে তা আটক করা হয়। আটকের পর ঐ নৌকায় তল্লাশী চালালে গোলপাতার নিচে বিপুল পরিমান সুন্দরীকাঠসহ প্রায় ১৪শ’ ৪৮ ঘনফুট সুন্দরবনের চোরাই কাঠ ও ১৩শ’ ২০টি কাঠের গুড়ি পাওয়া যায়। এ ঘটনায় বনজ দ্রব্যের মূল্য ও আনুমানিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমান ২ কোটি ৪ লাখ টাকা ধার্য করে বন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়। এ সময় নৌকা থেকে আটককৃত সুন্দরবন সংলগ্ন শরনখোলা উপজেলার রায়েন্দা গ্রামের বেলায়েত হোসেনকে ভ্রাম্যমান আদালতের নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট ৬ মাসের কারাদন্ড প্রদান করেন। এছাড়া ঐ নৌকায় করে আনা ২শ’ ৮৬ কুইন্টাল গোলপাতা উপজেলার সোহাগদল গ্রামের কাঠ ব্যবসায়ী এম এ সালাম রেজার জিম্মায় রাখা হয়।

পরবর্তিতে কাঠ পাঁচারকারী সিন্ডিকেট একত্রিত হয়ে অভিযোগ আনে উক্ত গোলপাতার একাংশ বন কর্মকর্তা বিক্রি করে দিয়েছেন। এই ঘটনা নিয়ে স্থানীয় ভাবে কিছুটা উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। তবে বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ দাবী করেছেন, সালাম রেজার কাছে জিম্মায় দেয়া গোলপাতা বিক্রি করার কোন সুযোগ নেই।

বন কর্মকর্তা তার অভিযোগে বলেন, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নেছারাবাদ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ তাকে উপজেলা অফিসে ডাকেন এবং অবৈধ কাঠবাহী নৌকাটির মালিক সালাম রেজার কাছে আটককৃত নৌকাটি হস্তান্তর করার জন্য বলেন। এ কাজে অপারগতা প্রকাশ করলে নির্বাহী কর্মকর্তা তার সাথে খারাপ আচরণ করেন এবং হুমকি দিয়ে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দেন। এ সময় উক্ত কাঠ পাচার সংক্রান্ত মামলার প্রধান আসামী সালাম রেজাও ইউএনও’র কক্ষে উপস্থিত ছিলেন।

পরে ঐ দিন বিকেলে স্বরূপকাঠি পৌরসভার মেয়র গোলাম কবির পৌর ভবনে ডেকে নিয়ে তাকে (বন কর্মকর্তা) কয়েকজন ইউপি চেয়ারম্যানের সামনে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালিসহ দৈহিক ভাবে লাঞ্ছিত করেন। একপর্যায়ে আটঘর কুড়িয়ানা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার রিভলবার উঁচিয়ে তাকে জীবননাশের হুমকি দেন এবং অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করে পৌর ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখেন। পাশাপাশি বন কর্মকর্তার সাথে থাকা বন কর্মী মোঃ মনিরকে কতিপয় যুবক ধাওয়া করলে তিনি স্থানীয় কোষ্টগার্ড ক্যাম্পে আশ্রয় নেন।

বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন আরো জানান, সার্বিক ঘটনার বিষয়ে স্বরূপকাঠী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে মোবাইল ফোনে অভিযোগ জানালে তিনি জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিতে অপারগতা প্রকাশ করেন এবং আদালতের শরনাপন্ন হওয়ার পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি বলেন, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপক্রমে রবিবার আদালতে মামলা করা হবে।

এ ব্যাপারে নির্বাহী কর্মকর্তা আবু সাঈদ জানান, প্রশাসন থেকে শুরু করে উপজেলার প্রায় সকল জনপ্রতিনিধি বন কর্মকর্তা সাজ্জাদের আচরনে ক্ষুব্ধ। বন কর্মকর্তা সাজ্জাদ একজন উদ্যত আচরনকারী। তবে তার সাথে কোন খারাপ ব্যবহার করা হয়নি। এছাড়া বন কর্মকর্তা বিভিন্ন সময় ইউপি চেয়ারম্যানদের সাথে রূঢ় আচরনও করেছেন।

এ অভিযোগ সম্পর্কে ইউপি চেয়ারম্যান শেখর কুমার সিকদার অস্ত্র উঁচিয়ে প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে অস্বীকার করে বলেন, আমার কোন অস্ত্র নেই, আর কোন অস্ত্রও বহন করিনা। ইউএনও’র সাথে দুর্ব্যবহারের খবর শুনে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা বন কর্মকর্তাকে পৌরসভায় ডেকে নিয়ে ঘটনাটি জানতে চেয়েছেন মাত্র।

স্বরূপকাঠি পৌর সভার মেয়র গোলাম কবির জানান, জব্দকৃত গোলপাতা বিক্রি করে দেয়া হয়েছে- এই খবর পেয়ে বন কর্মকর্তাকে পৌর ভবনে ডেকে এনে ঘটনা সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় হয়। এখানে লাঞ্ছিত করার কোন ঘটনা ঘটেনি।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial