প্রকল্পের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ || নাজিরপুরে ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত
নাজিরপুর প্রতিনিধি :
নাজিরপুরে ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে যুবলীগ নেতার হাতে এক ইউপি চেয়ারম্যান লাঞ্ছিত হয়েছেন। উপজেলার ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গনে গত সোমবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার ৯নং কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাহাদুর ঝান্টু নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তিনি গত ১৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে মাত্র ৫৮ ভোট পেয়ে জামানত হারিয়েছেন। আগামী ২৬ জুন তার চলমান দায়িত্বকাল শেষ হবে। নির্বাচনে পরাজিত হয়ে তিনি ওই ইউনিয়নে পরিষদের চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প দায়সারাভাবে শেষ করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত সোমবার মে দিবসের সরকারি ছুটি থাকার সুযোগে টিআর এর আওতায় বাস্তবায়িত বিভিন্ন প্রকল্প গোপনে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তার কার্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার মোশারেফ হোসেনকে নিয়ে সরেজমিনে পরিদর্শন করান। যে প্রকল্পগুলো ইতোপূর্বে এলজিএসপিসহ অন্যান্য বরাদ্দ থেকে বাস্তবায়ন করা হয়েছে তাও টিআরের আওতায় বাস্তবায়িত প্রকল্প হিসেবে দেখানো হয়।
এ ঘটনা জানতে পেয়ে ওই ইউনিয়নের বাসিন্দা উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি কবির হোসেন বাহাদুর তার কর্মীদের নিয়ে দুপুরের দিকে ইউনিয়ন পরিষদে যান। চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাহাদুর ঝান্টুর সামনে ইঞ্জিনিয়ার মোশারেফ হোসেনকে একাধিক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে মর্মে ওই যুবলীগ নেতা অভিযোগ উপস্থাপন করেন। এ সময় চেয়ারম্যান তা অস্বীকার করলে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তার কার্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার মোশারেফ হোসেনকে সরেজমিনে পুনরায় পরিদর্শন করায় জন্য অনুরোধ করেন কবির বাহাদুর। তখন চেয়ারম্যান পুনরায় সরেজমিনে পরিদর্শনে যেতে বাধা দিলে ওই কর্তকর্তাসহ পরিষদের কয়েকজন সদস্যের সামনেই যুবলীগ নেতা কবির বাহাদুর চেয়ারম্যানকে লাঞ্ছিত করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ওই ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের সদস্য সাইফুল ইসলাম জানান, চেয়ারম্যান বিগত ৫ বছরে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ১২ জন সদস্যদের প্রদেয় নির্ধারিত ভাতা তাদের না দিয়ে ৭ লাখ ৬৮ টাকাও আত্মসাত করেছেন।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে যুবলীগ নেতা কবির বাহাদুর বলেন, গত ৫ বছরে চেয়ারম্যান বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, মাতৃত্বকালীন ভাতা, মৎস্যজীবী কার্ডসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি করে সরকারের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত করাসহ ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছেন। আমি বিগত ৫ বছরে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যানের মাধ্যমে যে সকল প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে সে প্রকল্পগুলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের দাবী করছি।
ঘটনার বিষয়ে চেয়ারম্যান সাইদুল ইসলাম বাহাদুর ঝান্টু সাংবাদিকদের জানান, যুবলীগ নেতা কবির বাহাদুর তার কয়েকজন নেতা-কর্মী নিয়ে ওই দিন দুপুরে পরিষদে এসে বিভিন্ন প্রকল্প থেকে টাকা দাবী করে। এ ঘটনার প্রতিবাদ করায় তার সাথে তর্ক-বির্তক হয়েছে।
ঘটনার দিন চেয়ারম্যানের সাথে টিআরের বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনে যাওয়ার কথা স্বীকার করে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্তকর্তার কার্যালয়ের ইঞ্জিনিয়ার মোশারেফ হোসেন জানান, যে সকল প্রকল্পে অনিয়ম পাওয়া যাবে সেসব প্রকল্পের বিল বন্ধ করে দেয়া হবে।
