প্রধান সূচি

রাস্তা কেটে চলাচলে বাঁধা ! মঠবাড়িয়ায় দুই পরিবার অবরুদ্ধ

 

এস.এম. আকাশ, মঠবাড়িয়া :

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে চলাচলের একমাত্র রাস্তা কেটে ফেলায় দুটি পরিবারের লোকজন গত সাত দিন ধরে অবরুদ্ধ হয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছে। ভুক্তভোগি ওই পরিবার দুটি স্থানীয় থানা পুলিশে অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি। ফলে চরম দুর্ভোগে পরেছেন ভুক্তভোগি পরিবারের সদস্যরা ও কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। উপজেলার বড় শৌলা গ্রামের কৃষক আবদুল লতীফ ফকির ও তার ভাই হেমায়েত ফকিরের বাড়িতে ঢোকার একমাত্র রাস্তাটি প্রতিপক্ষ প্রভাবশালী দুই সহোদর শাহ আলম ও হালিম ফকির প্রকাশ্যে কেটে ডোবার সাথে মিশিয়ে দেয়। ফলে গত ৭দিন ধরে দুই পরিবারের চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগি পরিবার সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার মিরুখালী ইউনিয়নের বড় শৌলা গ্রামের মৃত. হযরত আলী ফকিরের পুত্র কৃষক আবদুল লতীফ ও বড় ভাই হেয়ামেত ফকির গত ২০০২ সালে স্থানীয় সাবেক সেনা সদস্য আবদুস সত্তার ও শাহআলম ফকিরের কাছ থেকে সাড়ে ১৬ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। ওই বছরই জমিতে রাস্তা ও আধা পাকা ঘর নির্মাণ করে দুই ভাই পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস শুরু করেন। সম্প্রতি প্রতিপক্ষ হালিম ও তার ভাই ফজলুল হক একই দাগ খতিয়ানের জনৈক বাদলের কাছ থেকে জমি ক্রয় করেন। এরপর রাস্তার জমির মালিকানা দাবী করে গত ২৪ এপ্রিল সোমবার সকালে লতীফ ও হেমায়েতের অনুপস্থিতে প্রতিপক্ষ হালিম ও শাহআলম ফকির তাদের ভাড়া করা লোকজন নিয়ে চলাচলের রাস্তা কেটে ডোবার সাথে মিশিয়ে দেয়। এসময় তারা বাড়িতে হামলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে কিছু ফলদ গাছ কেটে ফেলে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় দুটি পরিবারের ১২ সদস্যদের মধ্যে পুনরায় প্রতিপক্ষের হামলার ভয়ে আতংকিত রয়েছেন। ক্ষতিগ্রস্থ লতীফের স্ত্রী পাঁচ সন্তানের জননী তাছলিমা বেগম (৪০) জানান, গত ১৫ বছর ধরে আমরা এখানে বসবাস করে রাস্তা দিয়ে চলাচল করে আসছি। কিন্তু হঠাৎ করে রাস্তা কেটে নালার সাথে মিশিয়ে দেয়া এবং পুনরায় হুমকিতে আমরা আতংকে রয়েছি। ভুক্তভোগি কৃষক হেমায়েত অভিযোগ করে বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যস্থতার নামে রহস্যজনক ভাবে কালক্ষেপন করায় অবরুদ্ধ থেকে মানবেতর জীবন-যাপন করছি। ওই পরিবারের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সাদিয়া (১২), ৫ম শ্রেণীর ছাত্র আহাদ (১০) ও দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র তামিম (৮) জানান, রাস্তা না থাকার কারণে তারা গত সাত দিন ধরে স্কুলে যেতে পারছেনা।

এব্যাপারে প্রতিপক্ষ শাহআমের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই জমির মালিকানা দাবী করে রাস্তা কাটার কথা স্বীকার করেন।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কেএম তারিকুল ইসলাম বলেন, লিখিত অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। দুই পক্ষ সমঝোতায় না বসায় ফয়সালা করা সম্ভব হয়নি। পুনরায় পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial