স্বরূপকাঠীতে সামাজিক বনকর্মকর্তার বিরুদ্ধে জব্দ করা গোলপাতা বিক্রি করে দেয়ার অভিযোগ
স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠীতে চলতি মাসে সুন্দরবন থেকে অবৈধ সুন্দরী কাঠের সাথে আনা গোলপাতা জব্দ করার পর তা গোপনে বিক্রি করার অভিযোগ উঠেছে স্বরূপকাঠী উপজেলা বন কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেনের বিরুদ্ধে। জব্দ করা গোলপাতা থেকে প্রায় দুই‘শ পোন গোলপাতা বিক্রি করে উপজেলা বন কর্মকর্তা ইতিমধ্যে ৩০ হাজার টাকার অধিক হাতিয়ে নিয়েছেন বলে গোলপাতা ক্রয়কারী একাধিক লোকের সাথে কথা বলে জানা গেছে।
গত ৭ এপ্রিল আটক করা ওই গোলপাতা মজুদ করে রাখার পর থেকে প্রতি পোন (কুড়ি গন্ডা) দুইশত টাকা মুল্যে স্থানীয় আঃ লতিফ, কামরুলসহ অন্তত ২৫ জনের কাছে গোপনে বিক্রি করে তিনি ওই টাকা আত্মসাত করেছেন।
আজ শুক্রবার সরেজমিনে জানা গেছে সুন্দরবনের বগি রেঞ্জ থেকে বৈধ পাশে বিক্রি করতে আসা একটি গোলপাতার নৌকায় অবৈধ সুন্দরী কাঠ থাকার অভিযোগে উপজেলার ইন্দুরহাটের খাল থেকে উপজেলা বনকর্মকর্তা কোষ্টগার্ড নিয়ে ওই নৌকাটি আটক করেন। পরে ওই নৌকা থেকে নিষিদ্ধ সুন্দরী কাঠ উদ্ধার করতে গিয়ে প্রায় বিশ কাহন (১৬ পোনে এক কাহন) গোলপাতাও জব্দ করেন বন বিভাগ। জব্দ করা ওই গোলপাতা উপজেলা বন বিভাগের অফিসের সামনে চুনপোড়া খালের পাড়ে তুলে মজুদ করে রাখা হয়। পরে জব্দ করা গোলপাতা থেকে বন কর্মকর্তা সাজ্জাত হোসেন প্রায় দুইশ পোন গোলপাতা গোপনে বিক্রি করে দেন। গোলপাতার ক্রেতা স্বরূপকাঠি গ্রামের কামরুল জানান, একটু কম দামে পেয়েছি বলে দুই’শ টাকা দরে তিনি ছয় পোন গোলপাতা ক্রয় করেন। জব্দ করা গোলপাতা গোপনে বিক্রির কারণ এবং বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা জানার জন্য উপজেলা বন কর্মকর্তা মোঃ সাজ্জাত হোসেনের অফিসে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি । পরে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কথা বলতে চাইলেও তিনি ফোন ধরেননি। কিছুক্ষন পরে ০১৯১৫৭৯১৬৮২ নম্বরের একটি মোবাইল ফোন থেকে কল করে সাংবাদিককে গোলপাতার বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে নিষেধ করা হয়। বেশী বাড়াবাড়ি করলে কাঠ পাচার মামলায় জড়িয়ে দেয়ারও হুমকি দেয়া হয় ওই ফোন থেকে।
উপজেলা বন কর্মকর্তা কর্তৃক গোলপাতা বিক্রি করার বিষয় জানতে চাইলে সামাজিক বনায়নের বাগেরহাট ডিভিশনের ডিএফও মোল্লা রেজাউল করিম জানান, জব্দ করা মালামাল নিলাম ছাড়া বিক্রি করা যাবে না। বিষয়টির নিজে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবেন বলে জানান তিনি।
