সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করছে ….. বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ
স্টাফ রিপোর্টার :
মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি এ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ বলেছেন, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থানে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করা হচ্ছে। বাড়িঘরে হামলা-লুটপাট করে দখল করা হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আইনের আশ্রয় পর্যন্ত নিতে পারছেন না। তবে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে কেউ কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থও হাসিল করছে। অন্যকে হয়রানী করে নিজেদের স¦ার্থ আদায়, সুযোগ নেয়ার জন্য অনেকে সংখ্যালঘু’র তকমা নিয়ে চলছেন। আজ বুধবার বিকেলে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ কেন্দ্রীয় সভাপতি এক লিখিত বক্তব্যে বলেন, পিরোজপুরস্থ ৭৭/২৬২, বাইপাস সড়ক, মাছিমপুর এলাকায় সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগন্টিক সেন্টার নামে একটি প্রতিষ্ঠানকে কেন্দ্র করে বিরোধের বিষয়ে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের লোক ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ হাওলাদারের স্ত্রী সাবেক উপাধ্যক্ষ গীতা রানী মজুমদার মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচ কেন্দ্রীয় শাখায় একটি অভিযোগ করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের নেতৃবৃন্দ কয়েকবার তদন্ত শেষে ঘটনাটির সুষ্ঠু মিমাংসার জন্য বিরোধী পক্ষ সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগন্টিক সেন্টারের ক্রয়সূত্রে মালিক ওবায়দুল হক পিন্টুর সাথে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতে বুধবার একটি মিমাংসা বৈঠক বসার কথা ছিল। কিন্তু ওবায়দুল হক পিন্টু এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হলেও গীতা রানী মজুমদার কোন কারণ না দেখিয়েই রহস্যজনকভাবে সেই মিমাংসা বৈঠকে উপস্থিত হন নি। ফলে বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের নেতৃবৃন্দ উক্ত মিমাংসা বৈঠকটি বাতিল করতে বাধ্য হন।
গীতা রানী মজুমদারের উপস্থিত না হবার কারণ জানতে চেয়ে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে এ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ জানান, বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের নেতৃবৃন্দ বিষয়টি তদন্ত করে সন্দেহ পোশন করছে যে, ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ হাওলাদারের স্ত্রী গীতা রানী মজুমদার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নামে ব্যক্তিগত সুযোগ নিয়ে তাদের বিরোধী পক্ষ ওবায়দুল হক পিন্টুকে নানা ভাবে হয়রানি করছেন। ক্লিনিকটি ডাঃ বিজয় কৃষ্ণ নগদ অর্থসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে ওবায়দুল হক পিন্টুর কাছে বিক্রি করে দেন। বর্তমানে ডাঃ বিজয় অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি সুস্থ্য অবস্থায় আবাসিক চিকিৎসক হিসেবে ক্লিনিকটি পরিচালনা করতেন এবং ক্লিনিকের আবাসিক ডাক্তারের জন্য নির্বারিত ফ্ল্যাটে বসবাস করতেন। বর্তমানে তিনি ক্লিনিকে থাকেন না। কিন্তু তার স্ত্রী গিতা রানী মজুমদার উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ক্লিনিকের আবাসিক ডাক্তারের ফ্ল্যাটটি দখল করে আছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ্যাডভোকেট রবীন্দ্র ঘোষ আরো জানান, সার্জিকেয়ার ক্লিনিক এন্ড ডায়াগন্টিক সেন্টার নিয়ে বিরোধের বিষয়টি আদালতে বিচারাধীন। তাই এই বিষয়টি আদালতের মাধ্যমেই মিমাংসা হবে। তবে গীতা রানী মজুমদার বর্তমানে সংখ্যালঘু তকমা লাগিয়ে কতিপয় প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় ঘোলাপানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা চালাচ্ছেন।
সংবাদ সম্মেলনে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পুজা উদ্যাপন কমিটি সভাপতি বিমল কৃষ্ণ মন্ডল, বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের চট্টগ্রাম জেলা শাখার সভাপতি পুষ্পেন ব্যানার্জী, পিরোজপুর পৌরসভার কাউন্সিলর সাদুল্লাহ লিটন, বাংলাদেশ মাইনরিটি ওয়াচের পিরোজপুর প্রতিনিধি রবীন্দ্র নাথ বড়াল প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে পিরোজপুরের বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেক্টনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
