প্রধান সূচি

ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই দুলাভাইকে খুন

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় চাঞ্চল্যকর সাবেক সেনা সদস্য শাহীন হত্যা মামলার প্রধান আসামী দুলাভাই নাজমুল হককে শ্বশুর বাড়িতে এনে কুপিয়ে খুনের ঘটনায় শ্যালক তুহিন সরদার (২২)কে আটক করেছে থানা পুলিশ।

সোমবার গভীর রাতে উপজেলার বেতমোর রাজপাড়া ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামের তার নিকট আত্মীয় জাফর ফরাজীর বাড়ি থেকে তুহিনকে আটক করা হয়। ব্যবসায়ী নাজমুল খুনের ঘটনায় তার আপন সেঝ ভাই মিজানুর রহমান নিজাম বাদী হয়ে নাজমুলের শ্যালক তুহিন সরদারকে আসামী করে মঙ্গলবার বিকেলে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। আটককৃত তুহিন উপজেলার বড়মাছুয়ার ঠুটাখালী গ্রামের আঃ রহমান সর্দার ওরফে কাঞ্চণ এর ছেলে।

মঠবাড়িয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী শাহ নেওয়াজ জানান, আটককৃত তুহিন প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে খুনের ঘটনা স্বীকার করেছে। স্বীকারোক্তিতে তুহিন বলেন, দুলাভাই নাজমুলের দ্বিতীয় বিয়ের কারনেই তিনটি সংসার তচনছ হয়ে গেছে। দ্বিতীয় স্ত্রী লাইজুকে মেনে না নেওয়ায় তার (তুহিন) বোন হোসনেয়াররাকে (প্রথম স্ত্রী) নাজমুল দীর্ঘদিন ধরে শারীরীক ও মানষিক নির্যাতন করে আসছিল। বোনের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ করায় ২০০৮ সালের ২৬ মার্চ রাতে ভাড়া কারা ডাকাত আঃ ওয়াহেদকে দিয়ে  নাজমুল প্রথম স্ত্রী’র বড় ভাই সাবেক সেনা সদস্য শাহীন সর্দার খোকনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এ ঘটনায় শ্যালক শাহীনের স্ত্রী কাজল বেগম নাজমুলকে প্রধান আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করে। ওই মামলাটি বিচারাধীন থাকা অবস্থায় নাজমুল হত্যা মামলা তুলে নিতে বাদী কাজল বেগমকে চাপ প্রয়োগ করে। সোমবার ওই মামলাটি আপোষ মিমাংসা সমঝোতা বৈঠকে নাজমুল ও নিহত শাহীনের স্ত্রী কাজলের সাথে শ্বশুর বাড়িতে বসে বাক-বিতান্ডার একপর্যায় নাজমুল পরিবারের সবাইকে পুনরায় খুনের হুমকি দেয়। এ সময় পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তুহিন ধারালো চাইনিজ কুঁঠার দিয়ে নাজমুলকে এলোপাথারি কুপিয়ে হত্যা করে।

তুহিন পুলিশের কাছে আরও স্বীকার করেন, ভাইয়ের হত্যার প্রতিশোধ নিতে দুলাভাই নাজমুলকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেই। গত কয়েক বছর ধরেই দুলাভাই নাজমুলকে খুন করার জন্য খুঁজে বেড়াই এবং খুনে ব্যবহৃত ওই ধারালো চাইনিজ কুঁঠারটি গত দেড় মাস আগে খুলনা থেকে ক্রয় করে আনে।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে নিহত নাজমুলের ময়না তদন্ত শেষে পরিবারের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। আসর নামাজবাদ জানাজা শেষে শাপলেজা ভাইজোড়া গ্রামের পারিবারিক কবর স্থানে তার লাশ দাফন করা হয়।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial