৯ বছরেও চালু হয়নি ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আন্তঃর্বিভাগ
কন্ঠ রিপোর্ট :
পিরোজরের ইন্দুরকানী উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এর উদ্ভোধনের ৯ বছরেও চালু হইনি আন্তঃর্বিভাগ। উপজেলার লক্ষাধিক দরিদ্র পরিবার এ কারনে জরুরি চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে না। তাদের যেতে হয় প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে পিরোজপুর সদর হাসপাতালে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর আন্তঃর্বিভাগ চালু না থাকায় জরুরী রোগীদের হাসপাতালে নেয়া হলেও সেখানে চিকিৎসা দেয়া সম্ভব হয় না। যার ফলে বিভিন্ন সময় উপজেলার অনেক রোগীকে পিরোজপুর যাবার পথে মৃত্যু হয়েছে। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, ৩১ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ৩ তলা ভবনের নির্মান কাজ ২০০৬ সালে শেষ হয়। ২০০৮ সালের ৩০ অক্টোবর স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর ভবনটি স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। এরপর সেখানে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল পদায়ন ও আসবাপত্র সরবরাহ করা হয়। ৬ জন চিকিৎসক, ১১ জন নার্স ও ৬৪ জন কর্মচারী রয়েছে। বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা কোন মতে দেয়া হলেও আন্তঃর্বিভাগে চিকিৎসা কার্যক্রম এখনো চালু হয়নি। কাজ না থাকায় এখানকার ৬ জন নার্স বর্তমানে পিরোজপুর সদর হাসপাতাল ও বরিশাল আধুনিক হাসপাতালে প্রেষনে কর্মরত রয়েছেন। কর্মরত অন্য ডাক্তার, নার্সসহ কর্মচারীরা কাজ না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন। এমনকি সঠিক সময়ে উপস্থিতি মেলে না তাদের। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, আন্তঃর্বিভাগের জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে, কিন্তু সেগুলো ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এক্স-রে যন্ত্র নেই, আল্ট্রাসরোগ্রাম যন্ত্রটি তিন বছর ধরে বিকল হয়ে রয়েছে। কর্তব্যরত এক চিকিৎসক বলেন, আন্তঃর্বিভাগ চালু না হওয়ায় রোগীদের জন্য সরকারি কোনো ওষুধ বরাদ্দ নেই। জরুরি বিভাগে রোগীদের দোকান থেকে ওষুধ কিনে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ ও জখম রোগীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে সদর হাসপাতালে পাঠাতে হয়। এছাড়া এখানে গাইনী চিকিৎসক নেই। এ কারনে জরুরি প্রসূতিসেবা দেয়া যাচ্ছে না। ভারপ্রাপ্ত আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) শাকিল আহমেদ খান বলেন, প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জন রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। আন্তঃবিভাগ চালু না থাকায় গরীব অসহায় রোগীরা ঔষধ পাচ্ছেন না। ভর্তিযোগ্য রোগীদের পিরোজপুর সদর হাসপাতালে পাঠাতে হচ্ছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা শংকর কুমার ঘোষ বলেন, ওষুধসহ আনুষঙ্গিক বরাদ্দ না পাওয়ায় আন্তঃর্বিভাগ চালু করা যাচ্ছে না। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জরুরী চিকিৎসা নিতে রোগীরা আসে তাদেরকে সঠিক ভাবে চিকিৎসা দিতে পারছি না। এ উপজেলায় হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় চিকিৎসা নিতে আসা প্রতিদিন গড়ে ২০০জন রোগী আমাদের সাথে ক্ষোভ প্রকাশ করে। হাসপাতালটি চালু হলে এলাকার মানুষের অনেক উপকার হবে।
পিরোজপুর সিভিল সার্জন অফিস থেকে জানা যায়, ইন্দুরকানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ও আন্তঃর্বিভাগ সম্পূর্নভাবে চালুর জন্য প্রতি মাসে উর্ধ্বতন কতৃপক্ষকে চিঠি দেয়া হচ্ছে। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছে না।
স্থানীয় সংসদ সদস্য পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু সম্প্রতি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকে ওষুধ বরাদ্দ ও আন্তঃর্বিভাগ চালুর জন্য চিঠি দিয়েছেন। শিগগিরই আন্তঃর্বিভাগ চালু করা যাবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ইউপি সদস্য জনায়, গত ৯ বছর ধরে শুধু হাসপাতালটি চালু হচ্ছে, হবে, এই হচ্ছে, এসব কথা শুনে যাচ্ছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় চালু হচ্ছে না। আন্তঃবিভাগ চালু না হওয়ায় হতদরিদ্ররা হাসপাতালে এসে সেবা পাওয়ার বদলে উল্টো বিপাকে পড়ছেন। ঔষধ নেই, সার্বক্ষনিক চিকিৎসক নেই, নার্স নেই। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইচ্ছে মত আসে আর যায়।
