প্রধান সূচি

মাঠেই নষ্ট হচ্ছে পাকা ধান || বাগেরহাটে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি

 

মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট :

বাগেরহাটে কালবৈশাখী ঝড় ও টানা বৃষ্টিতে পাকা বোরো ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে বোরো ধানের মাঠ তলিয়ে রয়েছে। ফলে পাকা বোরো ধান মাঠে পড়েই নষ্ট হচ্ছে। এই ধান আর ঘরে তোলা সম্ভব হবে না বলে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষকরা জানিয়েছেন। গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিতে বাগেরহাট সদর উপজেলার গোটাপাড়া, কান্দাপাড়া, বেশরগাঁতি, চরগ্রাম, বেমরতা, ফতেপুর, ডেমা, চুলকাঠি, শ্রীঘাট, সিএন্ডবি বাজার, ষাটগম্বুজসহ বিভিন্ন উপজেলার পাকা বোরো ধানের মাঠ তলিয়ে যায়। তবে জেলায় কি পরিমান জমির রোরো ধানের আবাদ নষ্ট হয়েছে তা জানাতে পারেনি কৃষি বিভাগ।

অন্যদিকে, রবিবার রাতের বয়ে যাওয়া কালবৈশাখী ঝড়ে বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কে গাছ উপড়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। রাতে জেলার বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

কৃষক শেখ আব্দুস সালাম মোল্লা বলেন, “এ বছর দশ বিঘা জমিতে বোরো ধানের আবাদ করি। ধানের ফলনও ভাল হয়। গত কয়েকদিন ধরে শ্রমিক নিয়ে পেকে যাওয়া ধান মাঠ থেকে কাটা শুরু করি। হঠাৎ করে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় মাঠে কেটে রাখা ধান ঘরে তুলে আনতে পারিনি। ফলে ওই কেটে রাখা ধান মাঠে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। এতে আমার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।”

কৃষক ইসলাম হোসেন ও শাহজাহান হোসেন বলেন, “এ বছর বোরো ধানের আবাদ ভাল হয়েছে। বৈশাখ মাস থেকে মাঠের পেকে যাওয়া ধান আমরা কাটতে শুরু করি। গত তিনদিন আগে হাঠাৎ করে বৈরি আবহাওয়ার মধ্যে ঝড়ো হাওয়ার সাথে বৃষ্টি শুরু হলে ধান কাটা ব্যাহত হয়। ফলে ধানের মাঠ বৃষ্টির পানিতে নিমজ্জিত হয়ে তা ঝরে ঝরে পড়ছে। আমরা এই ধান আর ঘরে তোলার আশা ছেড়ে দিয়েছি।”

বাগেরহাট কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক মোঃ আবতাব উদ্দিন বলেন, অতি বৃষ্টিতে বাগেরহাটের মাঠে কাটার অপেক্ষায় থাকা পাকা বোরো ধানের ক্ষতি হয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ধানের মাঠ তলিয়ে রয়েছে। হঠাৎ বৈরি আবহাওয়ার কারনে কৃষক পাকা ধান মাঠ থেকে কেটে ঘরে তুলতে না পারায় তা মাঠেই ঝরে পড়ে আছে। এতে কৃষকের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। জেলার কত হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়েছে তার তালিকা তৈরি করতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস জানান, রবিবার রাতে প্রবল বর্ষণের সাথে ঝড়ো হাওয়ায় বাগেরহাট-মাওয়া মহাসড়কের মোল্লাহাট এলাকায় বেশকিছু গাছ উপড়ে রাস্তার উপর পড়ে। এতে বেশকিছু সময় যান চলাচল ব্যাহত হয়। ঝড় থামলে সড়ক বিভাগের কর্মীরা সেখানে গিয়ে রাস্তার উপর পড়ে থাকা গাছ কেটে সরিয়ে দিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। ঝড়ে জেলা জুড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। গভীর রাতে জেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আবার স্বাভাবিক করে বিদ্যুৎ বিভাগ।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial