প্রধান সূচি

ধ্বংস হচ্ছে কোটি কোটি ছোট মাছ ও পোনা || সুন্দরবনের পূর্ব অভয়ারণ্যে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চলছে  মাছ শিকার

 

সাইফুল্লাহ হুমায়ুন :

সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জে ব্যবস্থাপনাগত শিথিলতার সুযোগ নিয়ে বনদস্যুদের সহযোগিতায় অবৈধভাবে পূর্ব অভয়ারণ্যে মাছ শিকার নানা অনিয়মের ঘটনা ঘটেই চলছে। এই অপরাধের মূলহোতারা একজন বনদুস্যতা মামলার আসামী অন্যজন কুখ্যাত জুলফিকার বাহিনীর একসময়কার লোকালয়ের অর্থ আদায়কারী। পূর্ব অভয়ারণ্যের কঁচিখালী ও কটকা এলাকায় পাথরঘাটা ও শরণখোলা উপজেলার জেলেরা বেআইনীভাবে মাছ ধরছে। বন বিভাগের স্থানীয় অফিস ও টহলফাঁড়ি গুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎকোচ দিয়ে এই অপরাধ কর্ম চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের অধীন কচিখালী, ডিমেরচর, পক্ষীদিয়ারচর, সুখপাড়ারচর, কটকার বাদামতলা, কাদেরেরখাল, বন্ধুখালী প্রভৃতি অভয়ারণ্যভূক্ত এলাকায় বর্তমানে কোরালমাছ ধরার জাল, চরগড়া ও ঘোপজাল দিয়ে মাছ শিকার চলছে। চরগড়ার মত ছোট ফাঁসের জালে বেঁধে কোটি কোটি ছোট মাছ ও মাছের পোনা ধ্বংস হচ্ছে।  অভয়ারণ্যভূক্ত হওয়ায় এখানে মাছসহ সকল প্রকার আহরণ নিষিদ্ধ থাকলেও বন বিভাগের কারও কারও সহযোগিতায় পাথরঘাটা উপজেলার পদ্মা গ্রামের কথিত ডাকাত আব্দুল হালিম খান, তার ছেলে  রফিক, পাথরঘাটার টেংরা এলাকার শহীদ ও এনামুল এবং  শরণখোলা উপজেলার রাজাপুর এলাকার ইউপি সদস্য জাকির দর্জি মৌসুমপ্রতি চরভেদে ৫০ হাজার টাকা থেকে ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত উৎকোচ দিয়ে এ অবৈধ কাজ চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। এ উৎকোচের টাকা কচিখালী ও কটকা বন অফিসের কর্মকর্তারা ছাড়াও শরণখোলা রেঞ্জ সদর দপ্তর ও বাগেরহাটের সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের মধ্যে ভাগ-বাটোয়ারা করা হয় বলে অভিযোগে প্রকাশ। পূর্ব অভয়ারণ্যের মধ্যে সময় মাছ শিকার করা হলেও গত ফেব্রুয়ারী মাস থেকে কোরাল মাছ ধরার মৌসুমেই এই প্রবণতা বেড়ে গেছে। এ ব্যাপারে শরণখোলার সহকারী বন সংরক্ষক মোহাম্মদ হোসেনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, যে এলাকা নিয়ে অভিযোগ তা বঙ্গোপসাগরের তীরে হওয়ায় রেঞ্জ অফিস থেকে তদারক করা সম্ভব হয় না। তবে ওইসব এলাকার বন অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি ভাল বলতে পারবেন। সুন্দরবনের পূর্ব বিভাগের ডিএফও মো. সাইদুল ইসলাম জানান, এসব অভিযোগ পাওয়ার পর  কটকা টহলফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান পলাশকে বদলী করে এখানে নতুন ওসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে এবং তিনি তিনদিন আগে কর্মস্থলে যোগ দিয়েছেন। এরপর থেকে অভয়ারণ্য এলাকায় মাছ ধরা নিষিদ্ধসহ কটকা এলাকায় কোন জেলে থাকলে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে। কচিখালী এলাকায় কোন জেলে আছে কিনা তাও খুঁজে দেখা হবে। এ ব্যাপারে খুলনা সার্কেলের বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী ইত্তেফাককে বলেন, গত ডিসেম্বর পর্যন্ত সুন্দরবনে যে ‘স্মার্ট পেট্রোলিং’ বলবৎ ছিল তা এখন বন্ধ। আগামী মে মাসে এ ব্যবস্থা চালু হবে এবং সুন্দরবনের অপরাধ মাত্রা কমে আসবে। এদিকে কটকা এলাকায় বেআইনীভাবে মাছধরারত জেলেদের মহাজন শরণখোলার জাকির দর্জি তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন তিনি বৈধভাবে সেখানে ব্যবসা করেন। জেলেদের সূত্রে জানা গেছে, জাকির দর্জি প্রকৃত মৎস্য ব্যবসায়ী নন। অতীতে সুন্দরবনের কুখ্যাত বনদস্যু দল জুলফিকার বাহিনী ও বিডিআর বাহিনী মুক্তিপণ আদায় ও টোকেন প্রদানের এজেন্ট হিসাবে লোকালয় কাজ করতো। এ বাহিনী দু’টি র‌্যাব ও পুলিশের কঠোর অভিযানে বিলুপ্ত হওয়ায় জাকির দর্জি বিপুল অর্থের মালিক হয়ে বর্তমানে সুন্দরবনের মৎস্য ব্যবসার অন্যতম বিনিয়োগকারী। হালিম খান এক সময় সুন্দরবনে কুখ্যাত বনদস্যু ছিল এবং ডাকাতি মামলায় শরণখোলা থানার মামলায় গ্রেফতার হন। তার দুই ছেলে কবির ও রফিক বিভিন্ন বন অপরাধের সাথে যুক্ত এবং কবির দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ বলে হালিম জানান।  সে বন বিভাগসহ প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পক্ষকে ম্যানেজ করে এ বন  ও সাগরে মহাজন হিসাবে আবির্ভূত হয়েছে। অন্যদিকে পাথরঘাটার চারজন মৎস্য ব্যবসায়ী একই ভাবে অভয়ারণ্যে মৎস্য আহরণে লিপ্ত।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial