প্রধান সূচি

নাজিরপুরের ৩টি ইউনিয়নের নির্বাচন || হামলা-হাঙ্গামার কারণে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও ভোটারদের মধ্যে চরম উৎকন্ঠা

কন্ঠ রিপোর্ট :

আগামী ১৬ এপ্রিল পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ও দেউলবাড়ি দোবড়া এ দুটি ইউনিয়নের মেয়াদপূর্তি হওয়ায় এখানে সাধারণ নির্বাচন এবং শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের মৃত্যুজনিত কারণে এ ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

উপজেলার এ ৩টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যে আওয়ামী লীগ ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থীরা সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হওয়ায় সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন সম্পর্ন্ন নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও সাধারণ ভোটারদের মাঝে দিন উৎকন্ঠা বাড়ছে।

নির্বাচনের তফসিল থেকে শুরু করে ভালভাবে চলে আসা নির্বাচনীয় মাঠ গত কয়েকদিন ধরে উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। আচারণ বিধি লঙ্গন করে বহিরাগত ভাড়াটে ক্যাডার দিয়ে ভোটারদের ভয়-ভীতি দেখানো, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে প্রকাশ্যে মহড়া দেয়া, প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর নির্বাচনীয় ক্যাম্প ভাংচুর, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীসহ মুক্তিযোদ্ধা ও কর্মী সমর্থকদের মারধরের কারণে হঠাৎ নির্বাচনীয় মাঠ উত্তপ্ত হয়ে ওঠেছে। দু’জন মুক্তিযোদ্ধাকে মারধরের পর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা প্রকাশ্য গ্রুপিংয়ে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনার পর থেকে এলাকায় কয়েক দফা সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছে। নির্বাচনীয় এমন অশান্ত পরিবেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের আশাবাদী নির্বাচন কমিশনারের কথায় আস্থা রাখতে পারছেনা সাধারণ ভোটাররা।

আর মাত্র দুই দিন পরে অনুষ্ঠিতব্য পিরোজপুর জেলার নাজিরপুর উপজেলার দু’টি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন ও একটি চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচন নিয়ে সংশ্লিষ্ট এলাকায় ভোটাররা উৎকণ্ঠিত। ইতিমধ্যে দুইটি ইউনিয়নে প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর সমর্থনে বহিরাগত সন্ত্রাসীসহ এলাকায় চিহ্নিত মাস্তানরা ব্যাপক হাঙ্গামা ও হামলা শুরু করেছে। এ তিন ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে সরকার দলীয় আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পাশাপাশি বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় ভোট গ্রহণের এক সপ্তাহ আগে থেকেই শুরু হয়েছে সন্ত্রাস, হুমকি, ভাঙ্গচুর এবং প্রশাসনিক প্রভাব বিস্তারের প্রবণতা। সব চেয়ে স্পর্শকাতর কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের মধ্যে বিরাজ করছে চরম নিরাপত্তাহীনতা। ইতিমধ্যে সংবাদ সম্মেলন করে তিন জন চেয়ারম্যান প্রার্থী পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছেন দু’টি ইউনিয়নে।

আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের দুই প্রার্থী ইতোমধ্যে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে স্থানীয় এমপি’র বিরুদ্ধে নৌকার বিরোধিতা করাসহ দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ তোলেন। এমপি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে নৌকা প্রতিক পাওয়া এক প্রার্থী আওয়ামী লীগের কেউ নয় বলে সাংবাদিকদের ¯্রফে জানিয়ে দিয়েছেন।

গত রবিবার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নান্না মিয়া ওই ইউনিয়নের বৈঠাকাটা বাজারে তার নির্বাচনী কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দীন বাহাদুর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পর থেকেই তাকে নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য হুমকি-ধামকি দিতে থাকেন। কিন্তু সে সকল হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নান্না মিয়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনের মাঠে থাকায় এবং দিন দিন তার ভোটের পাল্লা ভারী হওয়ায় নিশ্চিত পরাজয় জেনে আলাউদ্দীন বাহাদুরের ছেলে ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি ট্রাফিক জোনের এসি (এএসপি) আনিচ উদ্দীন মিঠু পিতার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের জন্য ছুটি নিয়ে এলাকায় আসেন। গত শুক্রবার বিকেলে এএসপি মিঠু বহিরাগত ক্যাডার বাহিনীসহ অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দিলে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক ছড়ায় এবং নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের হুমকি-ধামকি দেয়ারও অভিযোগ করেন সাধারণ ভোটাররা।

গত শনিবার বেলা ১২টার দিকে মিঠুর নির্দেশে তার বাহিনী প্রায় ২০টি মোটর সাইকেল নিয়ে নান্না মিয়ার তিনটি নির্বাচনীয় কার্যালয় ভাংচুর করে। এ সময় তারা ওই নির্বাচনী কার্যালয়ে থাকা আনারস প্রতীকের বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সর্মথকদের মারধর করে। এতে ওই ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন গাউস, উপজেলা যুবলীগের সহ-সম্পাদক জাহিদ হোসেন, ইউনিয়ন যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রাশেদুল ইসলামসহ ১২ জন আহত হন। ওই দিন তারা আনারস প্রতীকের সকল প্রচার-প্রচারণা বন্ধ করে দেয়।

গত রবিবার সকাল ৮টার দিকে নৌকার কর্মী যুবলীগ নেতা কবির বাহাদুরের নেতৃত্বে এএসপি মিঠুর বাহিনী আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী নান্না মিয়ার কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল ও প্রফেসর মনিরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে। সংবাদ সম্মেলনে বিদ্রোহী প্রার্থী নান্না মিয়া নির্বাচনের দুইদিন পূর্ব থেকে এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব ও বিজিবি মোতায়নের দাবী জানান।

গত রবিবার আহত মুক্তিযোদ্ধা আবদুল আউয়ালের মুনিরাবাদ গ্রামের বাড়িতে গেলে তাকে অচেতন অবস্থায় দেখা যায়। তার স্ত্রী লুৎফুন্নেছা জানান, ওই দিন সকালে মিঠুর ক্যাডার বাহিনী তার স্বামীকে অপহরণ করে নিতে চাইলে স্থানীয় নারী-পুরুষরা তাতে বাধা দেয়। এসময় তারা মুক্তিযোদ্ধা স্বামীকে মারধর করে ও স্থানীয় কয়েকজন মহিলাকেও লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনার পর গত মঙ্গলবার বিদ্রোহী প্রার্থী নান্না মিয়া ৪০/৫০টি মোটর সাইকেলসহ উপজেলার পেনাখালী ট্রাজেডির হত্যাসহ একাধিক মামলার পলাতক আসামী নাজিরপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক টিপু সুলতানের নেতৃত্বে তার সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দিন বাহাদুরের এলাকায় মহড়া দেয়। এ সময় তারা ইউনিয়নের খলনী এলাকা থেকে নৌকা প্রতিকের তিন কর্মীকে তুলে নিয়ে মারধর করে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত ইয়াহিয়া ও উত্তম হালদার নামের নৌকা প্রতিকের দুই কর্মীকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে গত শুক্রবার আওয়ামী লীগের উদ্যোগে উপজেলার শ্রীরামকাঠী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি জগদ্বিশ চন্দ্র হালদারের সভাপতিত্বে স্থানীয় শ্রীরামকাঠী বাজারে জঙ্গি বিরোধী পথ সভার নামে ওই ইউনিয়নের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যান প্রার্থী উত্তম কুমার মৈত্রের এক নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট হাকিম হাওলাদার। প্রায় ২ হাজার নারী-পুরুষ এ সভায় উপস্থিতি ছিলেন। ওই দিন বিকাল ৩ টায় শুরু হওয়া এ সভা চলে রাত সোয়া ৯টা পর্যন্ত। এ জনসভায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী উত্তম কুমার মৈত্রের উপস্থিতিতেই তার পক্ষে ভোট চেয়ে বক্তব্য রাখেন বক্তারা। ওই জনসভায় নির্বাচনী আচরণ বিধি লঙ্গন করে প্রকাশ্যে ২টি বিদেশী শর্টগান নিয়ে অংশগ্রহণ করেন বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদের চেযারম্যান মুজিবুর রহমান শামীম। এসময় তার সঙ্গে থাকা দেহরক্ষীরা থানা পুলিশের সামনেই আগ্নেয়াস্ত্র বহন করছিলেন।

ওই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত এমএ মালেক বেপারীর ছেলে মিজানুর রহমান রিপন অভিযোগ করে বলেন, তৃণমূলের প্রার্থী বাছাইয়ে ১৯ ভোটের মধ্যে আমি ১৫টি ভোট পাই। কিন্তু নৌকা প্রতিক যিনি পেয়েছেন তিনি তৃণমূলের ভোটে অংশগ্রহণই করেননি। নৌকা প্রতীকের প্রার্থী নিশ্চিত পরাজয় জেনে আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। গত সোমবার গভীর রাতে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা বলিবাবলা এলাকায় তাদের (নৌকা প্রতিকের) নির্বাচনী অফিস নিজেরা ভাংচুর করে আমার (মিজানুর রহমান রিপন) ওপর দোষ চাপাতে চেষ্টা করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় নৈলতলা এলাকায় ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাঈম হাওলাদারের নেতৃত্বে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা আমার ৬/৭ জন কর্মীকে মারধর করে। তাদের মধ্যে মিজান শেখ, শংকর মালী, হুমায়ুন শেখ ও ফাহাদ শেখকে নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে, শ্রীরামকাঠী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে নৌকা প্রতিকের আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী ইউনিয়ন কৃষক লীগের সভাপতি উত্তম কুমার মৈত্র গত ৫ এপ্রিল প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) মিজানুর রহমান রিপনের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, বহিরাগত সন্ত্রাসী ও চিহিৃত ডাকাতদের দিয়ে সংখ্যালঘু ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদান, বিভিন্নমূখী নাশকতা এবং নিরাপত্তার আশংকা করে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

আসন্ন উপ-নির্বাচনটি প্রভাবমুক্ত ও প্রশ্নবিদ্ধ না হয় এ লক্ষ্যে প্রশাসন এবং আইন শৃংখলা বাহিনী যাতে নিরপেক্ষ দায়িত্ব পালন করেণ তার দাবী করেন আওয়ামী লীগের এ প্রার্থী।

লিখিত অভিযোগে প্রার্থী উত্তম কুমার আরও জানান, ইতিমধ্যে তার নির্বাচনী এলাকায় দুর্ধর্ষ ডাকাত আঃ হক, টপ টেরর ধর্ষন মামলার আসামী নিজাম সরদার ও মনির সিকদার ও দাগী সন্ত্রাসী সাইফুল বেপারীসহ বহিরাগত সন্ত্রাসীদের আনাগোনা বৃদ্ধিসহ অবৈধ অস্ত্রের মহড়া বৃদ্ধি পাওয়ায় বিভিন্ন হিন্দু এলাকার ভোটারদের মধ্যে ভীতি ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

ইউপি নির্বাচনে স্থানীয় এমপি দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে কাজ করছেন এমন অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করছেন কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান প্রার্থী মোঃ আলাউদ্দিন বাহাদুরও।

গত শনিবার দুপুরে পিরোজপুর প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। এ সময় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতিকের চেয়ারম্যান প্রার্থী আলাউদ্দিন বাহাদুর এক লিখিত বক্তব্যে জানান, তার (আলাউদ্দিন বাহাদুর) পক্ষে তৃর্ণমূল নেতৃবৃন্দের সমর্থন থাকা সত্বেও স্থানীয় এমপি শুরু থেকেই কেন্দ্রের দেয়া এ মনোনয়নকে বিরোধিতা করে তার অনুসারী নান্না মিয়ার পক্ষে সমর্থন দিয়েছেন। ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নান্না মিয়া বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কালো টাকার প্রভাব বিস্তার করে এলাকায় নৌকা বিদ্রোহী ক্যাম্পেইন করে যাচ্ছে। তাকে প্রত্যক্ষভাবে মদদ যোগাচ্ছেন স্থানীয় এমপি।

নির্বাচনের বিষয়ে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে বিএনপি মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী হাসনাত ডালিম বলেন, সরকারী দলের দুই প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছেন। তারা নিজেরে পক্ষে প্রভার বিস্তার ও হামলা-হাঙ্গামায় জড়িয়ে পড়ছে। ভোটারদের ভয়ভীতি দিচ্ছে। সে কারনে মহিলা ও বৃদ্ধ ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে অনিহা প্রকাশ করছে। তিনি সুষ্ঠু, অবাধ, নিরপেক্ষ ও শন্তিপূর্ন নির্বাচনের লক্ষে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে এখন থেকেই র‌্যাব-বিজিবি মোতায়েনের দাবী জানান।

এদিকে, উপজেলার ৩নং দেউলবাড়ী দোবড়া ইউনিয়নে স্বাধীনতা বিরোধী পরিবারের সন্তান বিতর্কিত ব্যক্তিকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে এমন অভিযোগ তুলে তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের বড় একটি অংশ বিদ্রোহী প্রার্থী এফএম রফিকুল আলম বাবুলের সাথে সরাসরি প্রচার-প্রচারণায় অংশগ্রহণ করছেন। এ ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মাঝে নির্বাচনী সংহিসতার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সার্বিক বিষয়ে কথা হলে নাজিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, হঠাৎ করে নির্বাচনী মাঠ কিছুটা গরম হয়ে উঠেছে। মঙ্গলবার রাতে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে হামলা ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই থানায় অভিযোগ দিয়েছে। তবে পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রনে রয়েছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তিনি জানান, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনার লক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনের আগে ১৪ এপ্রিল থেকে নির্বাচনী এলাকার প্রতিটি ইউনিয়নে বিজিব মোতায়েন থাকবে। এছাড়া নির্বাচনের দিন র‌্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃংখলা বাহিনীর বিপুল সংখ্যক সদস্য মোতায়েন থাকবে।

পিরোজপুর জেলা প্রশাসক মোঃ খায়রুল আলম সেখ জানান, কড়া নিরাপত্তার মাঝে নাজিরপুরের তিনটি ইউনিয়নের নির্বাচনী অনুষ্ঠিত হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা থাকবে। ইউনিয়ন প্রতি দুই প্লাটুন করে বিজিবি, এক প্লাটুন র‌্যাব ও প্রতি দু’টি কেন্দ্রে পুলিশের একটি করে স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং কেন্দ্র প্রতি পর্যাপ্ত পুলিশ ও আনসার সদস্য থাকবে।

বরিশাল রেঞ্জের পুলিশের ডিআইজি শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান জানান, নাজিরপুরের ইউপি নির্বাচন নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্নের জন্য পুলিশ সচেষ্ট।

 

 

 

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial