বাগেরহাটের ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ
মোঃ কামরুজ্জামান, বাগেরহাট :
বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ স্থাপনা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দিয়েছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার সকাল থেকে ভৈরব নদকে বাঁচাতে পৌরসভার সহযোগিতা নিয়ে জেলা প্রশাসন নদের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় এই উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে। ভৈরব নদের তীর ও জেগে ওঠা চরে ময়লা আবর্জনা ফেলে কতিপয় ভূমিদস্যু তা দখল করে স্থাপনা গড়ে তোলে। ভৈরব নদের তীর অবৈধ দখলদারদের দৌরাতœ বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি সম্প্রতি জেলা প্রশাসনের নজরে আসলে তারা এই অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে পৌরসভাও তাদের সহযোগিতা করে।
সরজমিনে দেখা যায়, বাগেরহাট শহরের ভৈরব নদের তীরের প্রধান বাজার, নাগেরবাজার, সুপারিপট্টি খেয়াঘাট, কেবি মাছ বাজার, লঞ্চঘাট, লোকালবোর্ড ঘাট, পুরাতন বাজার, মুণিগঞ্জ ও হাড়িখালি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বাঁশ খুটি দিয়ে অসংখ্য ঘর তৈরী করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর অংশে মাটি ফেলে উচুঁ করে স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। এসব ঘরে বসে তারা ব্যবসা করে আসছেন। সকাল দশটার দিকে দড়াটানা সেতুর নিচ থেকে বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা ভাঙ্গার কাজ শুরু করে প্রশাসন। এদিন বিকাল ৪টায় পর্যন্ত এ উচ্ছেদ অভিযান চললেও আরো অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে নদের তীর উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে। এরআগে ২০১৪ সালে ভৈরব নদের তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জেলা প্রশাসন। এর কিছুদিন যেতে না যেতেই আবারও ময়লা ফেলে নদী দূষণ ও দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে উঠতে শুরু করে।
বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ^াস বলেন, বাগেরহাট শহরের উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ভৈরব নদের দড়াটানা থেকে মুণিগঞ্জ এলাকা পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জায়গায় অসংখ্য স্থাপনা গড়ে ওঠে। এসব এলাকায় কতিপয় ব্যক্তি নদের জেগে ওঠা চর এবং বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলে দখল করে রেখেছে। দখলের চিত্র সম্প্রতি প্রশাসনের নজরে আসে। তাই এসব অবৈধ দখলদারদের সরানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। বাগেরহাট পৌরসভা আমাদের এই উদ্যোগের সাথে একাতœতা প্রকাশ করে। শহরের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর তীর রক্ষা ও দূষণ রোধে এখন থেকে নিয়োমিত ভাবে জেলা প্রশাসন মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবে বলে জানান জেলা প্রশাসক।
