নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়া ইউপি নির্বাচন।। প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থী ও মুক্তিযোদ্ধাদের মারপিটের অভিযোগ
নাজিরপুর প্রতিনিধি :
পিরোজপুরের নাজিরপুরের কলারদোয়ানিয়া ইউপি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাংচুর ও সমর্থকদের মারপিটের অভিযোগ উঠেছে।
আজ রবিবার উপজেলার বৈঠাকাটা বাজারে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ নান্না মিয়া সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে নান্না মিয়া বলেন, গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। ওই নির্বাচনের পর থেকেই আগামী নির্বাচনের জন্য কর্মী-সর্মথক নিয়ে মাঠে কাজ করেছেন। আসন্ন নির্বাচনে দল থেকে নান্না মিয়াসহ তিনজন সম্ভাব্য প্রার্থী মনোনয়ন চাওয়ায় দলীয় সিদ্ধান্তে তৃণমুলের ভোট নেয়া হয়। সেখানে ২০ ভোটের মধ্যে নান্না মিয়া ১১ ভোট পান। অপর দু’জন তিনটি করে ভোট পায়। দল থেকে নান্না মিয়াকে মনোনয়ন দেয়া প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হলেও তিনি রহস্যজনক কারণে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হন। দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে কর্মী-সর্মথকদের অনুরোধে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনারস প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তিনি। অন্যদিকে দলের কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আলাউদ্দীন বাহাদুরকে মনোনয়ন দেয়ায় তিনি নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
সংবাদ সম্মেলনে নান্না মিয়া বলেন, নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা শুরু হওয়ার পরে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দিন বাহাদুর কোন কর্মী-সমর্থক পাশে না পেয়ে আমাকে (নান্না মিয়াকে) নির্বাচনের মাঠ থেকে সরে দাঁড়ানোর জন্য নানাভাবে হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। আমি সকল হুমকি-ধামকি উপেক্ষা করে নির্বাচনের মাঠে থাকায় এবং দিন দিন আমার ভোটের পাল্লা ভারী হওয়ায় নিশ্চিত পরাজয় জেনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আলাউদ্দীন বাহাদুরের ছেলে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বর্তমানে ঢাকা মহানগর পুলিশের সহকারি পুলিশ কমিশনার (এএসপি) আনিস উদ্দীন মিঠু পিতার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের জন্য ছুটি নিয়ে এলাকায় আসে। গত শুক্রবার বিকেলে এএসপি মিঠু বহিরাগত বাহিনীসহ অর্ধশতাধিক মোটর সাইকেল নিয়ে এলাকায় মহড়া দিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে আতংক ছড়ায় এবং নৌকায় ভোট দেয়ার জন্য হুমকি-ধামকি দিতে থাকে। পরবর্তীতে গত শনিবার বেলা ১২টার দিকে প্রায় ২০টি মোটর সাইকেল নিয়ে তার বহিরাগত বাহিনী কোকরাকাঠী ব্রীজ সংলগ্ন আমার নির্বাচনী অফিসে হামলা চালায় এবং আসবাবপত্র ভাংচুরসহ পোষ্টার ছিড়ে ফেলে। আমি সংবাদ পেয়ে বিষয়টি তাৎক্ষনিক প্রশাসনকে অবহিত করার পরপরই জানতে পারি তারা সেখান থেকে এক কিলোমিটার দুরে চাঁনকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন আমার অন্য একটি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করছে। এ সংবাদ পেয়ে আমি কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে সেখানে গেলে তারা আমাকে লাঞ্চিত করে। তখন আমার কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দীন গাউস বাধা দিলে তারা তাকেসহ আমার ১০/১২জন কর্মীকে মারধর করে। এ সংবাদ পেয়ে বৈঠাকাটা তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ এসে আমাদের উদ্ধার করে এবং তাদের শান্ত করার চেষ্টা করে। তখন পুলিশের সামনেই তারা আমার কর্মী-সমর্থকদের হুমকি-ধামকি দেয়। পরবর্তীতে তারা বিকেল ৩টার দিকে খলনী এলাকায় আমার অপর একটি নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করে। ভাংচুর শেষে তারা আমার ৩টি অফিসই বন্ধ করে দেয়।
আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে যুবলীগ নেতা কবির বাহাদুরের নেতৃত্বে এএসপি মিঠু’র ক্যাডার বাহিনী আমার কর্মী বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল আউয়াল ও প্রফেসর মনিরুল ইসলামকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে মারধর করে। গুরুতর আহত অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধা আউয়ালকে নাজিরপুর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর ছেলে পুলিশের একজন এএসপি হয়েও সরাসরি এলাকায় থেকে প্রভাব বিস্তার করায় আমি অবাধ, সুষ্ঠ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিয়ে শংঙ্কিত হয়ে পড়েছি।
ইউনয়নের ৯টি কেন্দ্রকেই ঝুঁকিপূর্ন উল্লেখ করে চেয়ারম্যান প্রার্থী নান্না মিয়া নির্বাচনকে প্রভাবমুক্ত রাখতে এবং নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠুভাবে ভোট গ্রহণের লক্ষে আইন-শৃংখলা বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধিসহ নির্বাচনে বিজিবি মোতায়েনের দাবী জানান।
এদিকে, স্বতন্ত্র প্রার্থী (আওয়ামী লীগ বিদ্রোহী) নান্না মিয়াকে লাঞ্চিত এবং মুক্তিযোদ্ধাসহ কর্মী-সমর্থকদের মারধর এবং নির্বাচনী অফিস ভাংচুরের প্রতিবাদে গতকাল রবিবার দুপুরে বৈঠাকাটা বাজারে চেয়ারম্যান প্রার্থী নান্না মিয়া’র (আনারস প্রতীক) সহ¯্রাধিক কর্মী-সমর্থক বৈঠাকাটা বাজারে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে।
