প্রধান সূচি

ঝাড়ু বিক্রির ফেরিওয়ালা জয়নাল দফাদার

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা প্রতিনিধি :

পাইকগাছায় ফেরি করে ঝাড়ু বিক্রির আয়ে সংসারের ভোরণ-পোষণ জোগাচ্ছেন মোঃ জয়নাল দফাদার। জয়নালের নারকেল পাতার কাঠির তৈরী ঝাড়ু পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে। ফেরি করে ঝাড়ু বিক্রয় করা এখন জয়নাল পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে। পাইকগাছা পৌর বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় তিনি ফেরি করে ঝাড়ু বিক্রি করেন।

জয়নাল দফাদার পাইকগাছা উপজেলার গদাইপুর ইউনিয়নের মঠবাটী গ্রামের মৃত সুলতাল দফাদারের ছেলে। তার বয়স প্রায় ৫৮ বছর। ৩ ছেলে ও ১ মেয়ের জনক। ছেলে-মেয়ে সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরা পৃথক সংসারে আয় রোজগার করে সংসার চালাচ্ছে। এখন জয়নাল ও তার স্ত্রী’র আলাদা সংসারে ঝাড়ু বিক্রির আয়ে সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। ঝাড়ু বাড়ি, ঘর, উঠান পরিস্কার করার জন্য নিত্য দিনের প্রয়োজনীয় দ্রব্য। নারকেল পাতার ঝাড়ু দিয়ে ঘর-বাড়ি সহজে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা যায়। এজন্য মহিলাসহ সকলের কাছে ঝাড়ু খুবই প্রয়োজনীয় বস্তু। তাছাড়া নির্মাণ কাজ, রাস্তা তৈরীসহ বিভিন্ন কাজের জন্য কাঠির তৈরী ঝাড়ুর খুবই প্রয়োজনীয় হয়ে থাকে।

জয়নাল জানান, তিনি প্রায় ৩৫ বছর ধরে ঝাড়ু বিক্রি করছেন। ঝাড়ু’র প্রকার ভেদে ২৫ থেকে ৪০ টাকা দরে এক একটি ঝাড়ু বিক্রি হয়। পাইকগাছা বাজারে তিনি গড়ে ২০ থেকে ২৫টি ঝাড়ু বিক্রয় হয় বলে জানান। ঝাড়ু তৈরী করতে নারকেল পাতার কাঠি, ছোট কাঠের টুকরা ও প্লাষ্টিকের শক্ত টেপের প্রয়োজন হয়। ঝাড়ু তৈরীর কারুকাজ ঝাড়ু বাঁধার উপর নির্ভর করে। আগের দিনে গ্রামের প্রায় প্রতি বাড়িতে প্রায়োজনীয় ঝাড়ু নিজেরাই তৈরী করতো। কিন্তু এখন কাউকে ঝাড়ু তৈরী করতে দেখা যায় না। বাজার থেকে ক্রয় করে সবাই ঝাড়ু ব্যবহার করছেন। জয়নাল জানান, গ্রাম থেকে ঘুরে নারকেলের কাঠি ক্রয় করতে হয়। বর্তমানে ২৫ টাকা কেজি দরে নারকেলের কাঠি ক্রয় করেন। ২ কেজি নারকেলের কাঠিতে ৫টি ঝাড়ু তৈরী হয়। তাছাড়া তিনি নিজেও নারকেলের পাতা কেটে কাঠি তৈরী করেন। এসব কাজে তার স্ত্রী সহযোগিতা করে বলে জানান তিনি। সম্প্রতি তিনি চোখের ছানি অপারেশন করায় কিছুটা দূর্বল হয়ে পড়েছেন। এখন সপ্তাহে ২/৩ দিন পাইকগাছা বাজারসহ এলাকায় ঝাড়ু বিক্রি করে।

জয়নাল ঝাড়ুওয়ালা হিসেবে পাইকগাছা এলাকার একটি পরিচিত নাম। সবাই তাকে জয়নাল ঝাড়ুওয়ালা হিসেবে চেনে। তার তৈরী ঝাড়ু পাইকগাছার পার্শ্ববর্তী উপজেলার লোকজন অগ্রীম টাকা দিয়ে তৈরী করে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি ফেরি করার পাশাপাশি পাইকারীভাবে ঝাড়ু বিক্রি করেন। ঝাড়ু তৈরীর সম্ভবনাময় এই ক্ষুদ্র কুঠির শিল্প পাইকগাছা এলাকায় সাড়া ফেলেছে। সরকারি ও বেসরকারিভাবে ঝাড়ু তৈরীর জন্য কোন অনুদান পেলে জয়নালের তৈরী ঝাড়ু বাণিজ্যিক রূপ লাভ করতে পারে। এ জন্য জয়নাল ঝাড়ু শিল্পে ক্ষুদ্র বিনিয়োগ করা জন্য সরকারি বা বেসরকারি অনুদান পাওয়ার জন্য সহযোগিতা কামনা করেছেন।

 

Please follow and like us:


« (পূর্ববর্তি সংবাদ)



উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial