নামের মিল থাকায় গ্রেফতার ।। বিনা অপরাধে ৮ দিন ধরে কারাগারে ভান্ডারিয়ার এক চা বিক্রেতা
ষ্টাফ রিপোর্টার :
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী ফেরিঘাটের চা বিক্রেতা মোঃ কাওছার উকিলকে (৪২) ভান্ডারিয়া থানার এস আই সুজন চক্রবর্তী গত ২৩ মার্চ সকালে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করলে আদালত তাকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন। দোকান থেকে কাওছারকে গ্রেফতারের সময় পুলিশ বলেছেন আপনার বিরুদ্ধে খুলনার আদালত থেকে গ্রেফতারি পরোয়ানা এসেছে। কাওছার গ্রেফতার এড়াতে পুলিশকে অনেক অনুনয় বিনয় করলেও কোন কাজ হয়নি। কাওসার উকিল উপজেলার ২নং নদমূলা শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের হেতালিয়া গ্রামের মৃত আবুল হাসেম উকিলের ছেলে। যে মামলায় চা বিক্রেতা কাওছারকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে মামলাটির বাদি খুলনা জেলার বটিয়াঘাটা উপজেলার নবীনগর গজালমারী গ্রামের বাসিন্দা আবুল কালামের মেয়ে শীমু আক্তার।
শীমু আক্তার ২০১৬ সালের ৫ জানুয়ারি খুলনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালতে তার স্বামী মিঠু উকিল, শ্বশুর কাওছার উকিল, শ্বাশুরী খুকী বেগম ও ননদ রাজিয়া বেগমসহ চার জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নম্বর ৪৬৭/১৬। আসামিদের স্থায়ী ঠিকানা (বাড়ি) ভান্ডারিয়া উপজেলার চরখালী গ্রামে।
এ বিষয়টি নিশ্চিত করে খুলনা জজ কোর্টের আইনজীবী আব্দুল মজিদ বলেন, শীমু আক্তারের সাথে ২০১৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর মিঠু উকিলের পারিবারিক ভাবে বিবাহ হয়। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বিমত হলে এ মামলাটি করেন শীমু আক্তার। তিনি বলেন, আসামি আদালতে হাজির না হলে আদালত বাদির শ্বশুর চরখালী গ্রামের বাসিন্দা কাওছার উকিলের বিরুদ্ধে ভান্ডারিয়া থানায় গ্রেফতারি পরোয়ানা আসে। পুলিশ কোন প্রকার যাচাই বাছাই না করেই নামের মিল থাকায় হেতালিয়া গ্রামের কাওছার উকিলকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে। তিনি বলেন, আমি বিনা অপরাধে জেল হাজতে থাকা কাওছার উকিলের জামিনের জন্য ২৯ ও ৩০ মার্চ দুই দিন আদালতে আবেদন করেছিলাম। তবে আদালতের কর্যক্রম না চলায় কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। আগামী রবিবার আবার জামিনের আবেদন করবো। এ ব্যাপারে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার ওয়ালিদ হোসেন জানান, আটক ব্যক্তি গ্রেফতারের সময় তার নাম ঠিকমত বলতে পারেনি। বিষয়টি আমরা যাচাই বাছাই করে ব্যবস্থা নিচ্ছি। নামের মিল থাকায় আরেকজনকে গ্রেফতার করে অন্যায়ভাবে জেল খাটানোর ব্যাপারে জানতে চাইলে ভান্ডারিয়া থানার এস আই সুজন চক্রবর্তী বলেন আমার ভুল হয়েছে।
