প্রধান সূচি

আজও নির্মিত হয়নি পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ব্রীজ ও মঠবাড়িয়ার গুদিঘাটা ব্রীজ

কন্ঠ রিপোর্ট :

পিরোজপুর জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ঐতিহ্যবাহী পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ও গুদিঘাটা ব্রীজ আজও নির্মান করা হয়নি। এ ব্রীজ দুটি সম্পূর্ন ভেঙ্গে পড়ার পর বেশ কয়েক মাস কেটে গেলেও তা নির্মানে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোন ধরনের অগ্রগতি নেই বললেই চলে। ফলে স্থানীয় জনগণ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও পরিবহন চালকরা ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন। তাদের দাবী অবিলম্বে ব্রীজ দু’টি নির্মান করে চরম ভোগান্তির শিকার থেকে তাদেরকে মুক্তি দেয়া হোক।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, জেলার সদর উপজেলা ও ইন্দুরকানি উপজেলার মধ্যস্থলে মৎস্য বন্দরখ্যাত উমেদপুর খালের পুরাতন আয়রন ব্রীজটি একটি ইঞ্জিন ট্রলারের ধাক্কায় গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ভেঙ্গে পড়ার অন্তত পাঁচ মাস অতিবাহীত হলেও এখনও তার একই চিত্র দৃশ্যমান। এই ক’মাসেও এলজিইডি কর্তৃপক্ষের ব্রীজটি নির্মানের কোন উদ্যোগ দেখতে না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন এ অঞ্চলের মৎস্যজীবী ব্যবসায়ী, স্থানীয় জনসাধারণ এবং স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা। ব্রীজের অভাবে এই খালের ওপর দিয়ে চলাচলকারী ক্ষুদ্রাকৃতির খেয়া নৌকাগুলোকে যাত্রী ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে মাঝে-মধ্যে যথেষ্ট ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। ডুবেও যায় মাঝে মধ্যে।

সদর উপজেলার বাদুরা ও গাজিপুরসহ অন্তত ৬/৭ গ্রামের মানুষ ওই ব্রীজটি পারাপার হয়ে ইন্দুরকানি ও পিরোজপুরসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন। আসন্ন ঝড়-বাদলের মৌসুমে খেয়ায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ন হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন এখানকার স্থানীয়রা।

ব্রীজ নির্মানের বিষয়ে পিরোজপুর এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রফিকুল হাসান জানান, বরিশাল অবকাঠামো প্রকল্পের আওতায় হুলারহাট থেকে পাড়েরহাট বন্দর অংশে একটি স্ট্যান্ডার্ড ব্রীজ নির্মানের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা ইতিমধ্যে ডিজাইন করা হয়েছে।

অন্যদিকে জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার তুষখালী ইউনিয়ন ও মঠবাড়িয়া সদর ইউনিয়নের সংযোগ খালের ওপর ১২২ ফুট দীর্ঘ গুদিঘাটা বেইলি ব্রীজটি গত বছরের ১৫ জুন পাথর বোঝাই দুটি ট্রাক নিয়ে ভেঙ্গে পড়ার অন্তত নয় মাস অতিবাহিত হলেও ব্রীজটি নির্মানে পিরোজপুর সড়ক ও জনপথ বিভাগ এ ব্রীজটি পূনঃনির্মানের কোন উদ্যোগ আজও নেয় নি। বরিশাল-পিরোজপুর-মঠবাড়িয়া-পাথরঘাটা আঞ্চলিক মহাসড়কের গুদিঘাটা হয়ে বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলার সাথে রয়েছে সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা। বর্তমানে সড়ক ও জনপথ বিভাগ ভাঙ্গা ব্রীজের স্থানে সরু একটি বাইপাস সড়ক (ডাইভারশন) নির্মান করে দিলেও প্রতিদিন দুর্ভোগ ও ঝুঁকি মাথায় নিয়ে যাত্রী, পরিবহন চালক ও এ্যাম্বুলেন্স চালকদের যাতায়াত করতে হচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘটছে দুর্ঘটনা। বর্ষা ও বিরূপ আবহাওয়ায় এই বাইপাশ সড়কের অবস্থা আরও শোচনীয় হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন ভূক্তভোগীরা।

ফলে জেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর ব্রীজ ও মঠবাড়িয়ার গুদিঘাটা ব্রীজ দুটির নির্মান কাজ অবিলম্বে শুরু করে এসব অঞ্চলের পরিবহন চালক, যাত্রী, স্থানীয় অধিবাসিসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীর সুবিধার কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসবেন এমনটাই দাবী স্ব স্ব এলাকার সর্বস্তরের জনগনের।

 

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial