পুঠিয়ার বড় শিব মন্দির
কন্ঠ ডেস্ক :
সম্ভবত প্রতœতাত্ত্বিক ভাবে রাজশাহীর পুঠিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান পুরাকীর্তি নিদর্শন। পুঠিয়া বাজারে প্রবেশ করতেই হাতের বাম পাশে শিবসাগর দীঘির দক্ষিণ পাড়ে বড় শিব মন্দিরটি অবস্থিত। এ স্থাপত্য সৈৗন্দর্যের জুড়ি মেলা ভার। দেশের সবচেয়ে বড় কষ্টি পাথরের শিবলিঙ্গের মূর্তিও এ মন্দিরেই স্থাপিত। পুঠিয়ার দুটি পঞ্চরতœ মন্দিরের মধ্যে এটি প্রথম। এখনও এ মন্দিরে পূজা-অর্চনা হয়। বলা হয় উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় শিব মন্দিরও এটি।
পাঁচআনি জমিদার রানী ভূবনময়ী এ মন্দির নির্মাণ করেন। তাই এ মন্দিরের অপর নাম ভূবনেশ্বর মন্দির। ১৮২৩ সালে নির্মাণ কাজ শুরু করে ১৮৩০ সালে শেষ হয়। প্রায় ৭ বছর লেগেছিল এ মন্দির নির্মাণে। উঁচু মঞ্চের উপর নির্মিত মন্দিরটির দক্ষিণ দিকে সুপ্রশস্ত সিঁড়িসহ প্রধান প্রবেশপথ।
মন্দিরের চারপাশে টানা বারান্দা এবং বারান্দায় রয়েছে ৫টি করে খিলান প্রবেশপথ। মন্দিরের উত্তর পাশে অবস্থিত দীঘিতে নামার জন্য বাধানো ঘাট রয়েছে। চারকোণে ৪টি ও কেন্দ্রস্থলে একটি চূড়া আছে।
এত বেশি কারুকাজে এ মন্দির নান্দনিক যে সেই সময় মন্দির নির্মাণ ব্যয় ছিল ৩ লাখ টাকা। ব্যয়ের পরিমাণ সম্পর্কে ধারণা করা যাবে এ ব্যয় দেখে- সে সময় পুঠিয়া ষ্টেটের জন্য ইংরেজদের বার্ষিক বন্দোবস্ত দিতে হতো ১ লাখ ৯০ হাজার টাকা।
যেভাবে যাবেন ঃ
রাজশাহী-নাটোর মহাসড়কের পুঠিয়া বাসষ্ট্যান্ড থেকে এক কিলোমিটার দক্ষিণে রিকশাযোগে মাত্র পাঁচ মিনিটের পথ, ভাড়া মাত্র পাঁচ টাকা। রাজশাহী শহর থেকে সড়ক পথে দূরত্ব ৩৪ কিলোমিটার এবং নাটোর থেকে ১৮ কিলোমিটার। নিজস্ব গাড়িতে জায়গাটিতে ভ্রমণে গেলে রাজশাহী শহরের প্রায় ত্রিশ কিলোমিটার আগে পড়বে জায়গাটি।
এ ছাড়া রাজশাহীগামী যেকোনো বাসে গিয়েও পুঠিয়া নামা যায়। আবার রাজশাহী থেকে লোকাল বাসে পুঠিয়া আসতে সময় লাগে প্রায় পৌনে এক ঘণ্টা। রাজশাহী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল থেকে নাটোরগামী বাসে চড়েও পুঠিয়া নামা যায়।
কোথায় থাকবেন ঃ
পুঠিয়াতে জেলা পরিষদের দু’টি ডাকবাংলো আছে যেখানে নির্ধারিত ভাড়া পরিশোধ করে থাকা যাবে। তবে যাওয়ার আগেই ডাকবাংলোতে কক্ষ বরাদ্দ নিতে হবে জেলা পরিষদ থেকে।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের ফোন নম্বর ০৭২১-৭৭৬৩৪৮। এ ছাড়া পুঠিয়া বাসষ্ট্যান্ডের পাশে একটি বেসরকারি আবাসিক হোটেল রয়েছে।
