দেখে আসুন ৪১৮ বছরের পুরানো পারুলিয়া মসজিদ
কন্ঠ ডেস্ক :
নরসিংদী জেলার পলাশে অবস্থিত ৪১৮ বছর বয়স্ক পারুলিয়া মসজিদ। এই মসজিদের প্রধান দরজার উপরে ফারসি ভাষায় লিখিত শিলালিপি থেকে জানা যায়, নাসিরের কন্যা এবং দিওয়ান শরীফের স্ত্রী জয়নাব কর্তৃক ১১২৬ হিজরী এ মসজিদ নির্মান করেন। মদিনার হারামে রাসুলের মতো দেখতে এ মসজিদের সবুজ গম্বুজ (শিলালিপিটি অনুবাদ করে দিয়েছেন অনুবাদক ও লেখক মোহাম্মদ শামসুল আজম)। কিছুদিন আগে এই সবুজ গম্বুজ নীল রঙের দেখা গেলেও এখন গোলাপি রঙের হয়ে গেছে।
পারুলিয়া মসজিদকে অনেকে গায়েবী মসজিদও বলেন। কথিত আছে- একরাতে নির্মিত হয়েছিল বলে এ নামকরণ। মসজিদের বর্তমান ইমাম হাফেজ মোঃ ওয়ালিউল্লাহ জানালেন এতথ্যটি সঠিক নয়। বেশ তোড়জোড় করেই মসজিদটি নির্মিত হয়েছিল। মসজিদের ভিটা উঁচু করার জন্য পাশেই পুকুর কাটা হয়েছে। নির্মাতা মহোদয়া শিলালিপি লাগাতেও ভোলেন নি। মসজিদটি আয়াতকার হলেও ৩টি বর্গের সমষ্টি। প্রতিটি বর্গাকৃতির উপর একটি করে গম্বুজ আছে। মসজিদের সামনের দিকে (পূর্ব দিকে) ৩টি দরজা এবং দক্ষিন দিক ১টা দরজা আছে। মসজিদের সামনের আঙিনা নিচু প্রাচীর দিয়ে ঘেরা। সম্প্রতিকালে প্রাচীরের উপর গ্রিল লাগিয়ে আঙিনাকে আরও সুরক্ষিত করা হয়েছে।
মসজিদের পশ্চিমে দিওয়ান শরীফ এবং বিবি জয়নাবের এক গম্বুজবিশিষ্ট সমাধি অবস্থিত। সমাধির সাইনবোর্ডে প্রতিষ্ঠা সাল ১০২৬ হিজরি লেখা থাকলেও সেটা ভুল। মসজিদের নির্মাতা মসজিদ নির্মাণের প্রায় ১০০ বছর আগে মারা যাওয়া যুক্তিসঙ্গত নয়।
সঠিক তথ্য হচ্ছে ১১২৮ হিজরিতে দেওয়ান শরীফ খাঁ ইন্তেকাল করেন। পরের বছর জয়নব বিবি মারা যান। তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী স্বামীর পাশেই তাকে দাফন করা হয়। বর্তমানে এই সমাধি জয়নব বিবির মাজার হিসাবেই অধিক পরিচিত। জানা যায় দিওয়ান শরীফ ছিলেন ঈশা খাঁর পঞ্চম অধস্তন পুরুষ আর বিবি জয়নাব ছিলেন দিল্লীর প্রশাসক নাসির শাহ্ এর কন্যা।
মাজারের আদি ঘরটি দোচালা। সম্ভবনা বেশী- মাজার নির্ভর ব্যক্তিদের উদ্যোগে পরবর্তীতে সমাধির উপর এক গম্বুজ বিশিষ্ট সমাধি ঘর নির্মিত হয়েছে। নরসিংদী এলাকার অধিকাংশ পুরনো মাজারেই গায়েবী পাথর দেখা যায়। এখানেও ব্যতিক্রম নয়। গায়েবী পাথরের ব্যাবহারও বেশ- পাথরের উপর পানি ঢেলে সে পানি ভক্তরা অতি বিশ্বাসে পান করেন অথবা সে পানি দিয়ে মাথা ভেজান। হয়তো প্ল্যাসেবো হিসেবে ফলাফল মন্দ নয়।
মসজিদ ও মাজার পরিচালিত হয় একটা কমিটি দ্বারা। সৌভাগ্যক্রমে দেখা ও কথা হল বংশ পরম্পরায় খাদেম পরিবারের প্রতিনিধি মোঃ জাহিদ হোসেন ফকির এর সাথে। ৪টি বেশ বড় আকৃতির পুকুর মসজিদ ও মাজারের মূল আয়ের উৎস।
যেভাবে যাবেন ঃ
ঢাকা থেকে নরসিংদী যাওয়ার সবচেয়ে সহজ ব্যবস্থা ট্রেন। স্টেশন থেকে তরোয়া বাসস্ট্যান্ড যেতে হবে। তরোয়া থেকে পলাশ থানার পারুলিয়া বাজার বাসে ১৫ টাকা আর সিএনজি রিজার্ভ করে নিলে ২০০টাকা মত ভাড়া। পারুলিয়া বাজার থেকে ৭/৮ মিনিটের হাটা দূরত্ব পেরুলেই মসজিদ, রিকসা ভাড়া ১০ টাকা।


