প্রধান সূচি

বাগেরহাটে বিষ প্রয়োগে মাছ লুট : নিঃস্ব হয়ে পথে বসেছেন একাধিক ব্যবসায়ী

বাগেরহাট প্রতিনিধি :

বাগেরহাটে চিতলমারী উপজেলার পাটরপাড়া গ্রামে চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগে মাছ লুটের ঘটনায় সংখ্যালঘু ঘের ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসোন্তষ দেখা দিয়েছে। আর বিষ প্রয়োগে মাছ লুটের ঘটনা সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছেন অনেক ঘের ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ঘের ব্যবসায়ী রবীন বসু মামলা দায়েরের পর পুলিশ দুই জনকে আটক করলেও বাকি আসামীরা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে বলে একাধিক ঘের ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানাযায়, গত ১ মার্চ রাতে পাটরপাড়া গ্রামের নাজমুল সরদার, কাবিল শেখ, মহিদুল শেখ, আব্দুল সরদার, আছাদ মুন্সি, আলিমুদ্দিন মুল্লিকসহ অজ্ঞাত ৪/৫ জনের একদল সন্ত্রাসী রবীন বসুর চিংড়ি ঘেরে রামদা দা, নেট জাল, বস্তাসহ প্রবেশ করে। এসময় তারা চিংড়ি বিষ প্রয়োগ করে মাছ লুটে নিতে থাকে। খবর পেয়ে ঘের মালিক রবীন বসু লোকজন নিয়ে ছুটে আসলে সন্ত্রাসীরা মোবাইল ফোন, বস্তা ও নেট জাল ফেলে পালিয়ে যায়।

সংখ্যালঘু ঘের ব্যবসায়ীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ক্ষোভ

এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত চিংড়ি ঘের ব্যবসায়ী রবীন বসু, সন্তোষ বাবু, অপূর্ব রায়, খোকন বালাসহ চিতলমারী পাটরপাড়া গ্রামের অধিকাংশ ঘের ব্যবসায়ীরা বলেন, আমরা সংখ্যালঘু হওয়ার কারনে পাটরপাড়া গ্রামের চিহ্নিত ওইসব সন্ত্রাসী কখনো প্রকাশ্যে বা রাতের আধাঁরে আমাদের চিংড়ি ঘের গুলোতে বিষ দিয়ে মাছ লুটে নেয়। প্রতিবাদ করলে জীবনাশের হুমকীসহ মারপিটের শিকার হতে হয়। এলাকার এসব ঘের লুটকারীদের হাতে আমরা জিম্মি হয়ে পড়েছি। ইতি মধ্যে এদের অত্যচারে সবকিছু হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পার্শ্ববর্তি দানোখালী গ্রামের মৃত আদিত্য বিশ্বাসের ছেলে সুদেব বিশ্বাস ভারতে চলে গেছেন। এছাড়া পাটরপাড়া গ্রামের ঘের ব্যবসায়ী বৈকন্ঠ মজুমদার ও দানোখালী গ্রামের প্রফুল্য বাইন বিভিন্ন এনজিও থেকে লোন নিয়ে ঘের করছিল। বিষ প্রয়োগ করে তাদের ঘেরের চিংড়ি লুটে নেয় ওইসব সন্ত্রাসীরা। সব হারিয়ে তারা এখন পাগলপ্রায়। এমন অনেক ঘের ব্যবসায়ী আছেন যারা বিষ প্রয়োগে মাছ লুটের ঘটনায় সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন।

চিতলমারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ রেজাউল করিম বলেন, পাটরপাড়া গ্রামের রবীন বসুর ঘেরে বিষ দিয়ে মাছ লুটের ঘটনায় দুই জনকে আটক করা হয়েছে। বাকি আসামীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অভ্যহত রয়েছে। এছাড়া সংখ্যলঘু বলতে কিছু নেই। চোরের ধর্ম হচ্ছে চুরি করা আর আমাদের ধর্ম হচ্ছে তাদের আটক করা। বাকিটা আদালতের বিষয়।

Please follow and like us:





উত্তর দিন

Wordpress Social Share Plugin powered by Ultimatelysocial