স্বরূপকাঠীতে ৭ শিক্ষার্থীর জন্য ৫ শিক্ষক
স্বরূপকাঠী প্রতিনিধি :
স্বরূপকাঠী উপজেলার দক্ষিন ধলহার আদর্শ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে (সাবেক রেজিঃ) ৭ জন শিক্ষার্থীর জন্য কর্মরত আছেন ৫ জন শিক্ষক। যদিও ১৫/১৬ জন শিক্ষার্থী আছেন বলে দাবী করেন প্রধান শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ মিত্র।
স্থানীয়দের দাবী ওই বিদ্যালয়টিতে গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কখনই ২০ জনের বেশী ছিল না। তার পরেও বিদ্যালয়টি ২০১৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। ওই বিদ্যালয়ে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শিক্ষার্থী না থাকার পরেও গত নভেম্বর মাসে প্যানেলভুক্ত আরো এক শিক্ষককে নিয়োগ দেয় শিক্ষা দপ্তর। এতে প্রতিষ্ঠাকালীন থাকা ৪ শিক্ষকসহ বিদ্যালয়টিতে শিক্ষক সংখ্যা দাড়ায় ৫ জনে।
সরেজমিন বিদ্যালয় গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ে উপস্থিত মাত্র একজন চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্রকে পড়াচ্ছেন বিউটি রানী নামের একজন শিক্ষিকা। বাকী দু‘জন শিক্ষক লাইব্রেরীতে বসে আড্ডা দিচ্ছেন। পৌনে ১২ টার সময় প্রধান শিক্ষক বিজয় মিত্র বিদ্যালয়ে আসেন। তিনি ৮ কিলোমিটার দূরে স্বরূপকাঠি বন্দরে বসবাস করেন। মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা কত জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক বিজয় কৃষ্ণ মিত্র বলেন, ‘আজকে একটু কম উপস্থিতি হয়েছে।’ এত কম কেন জানতে চাইলে তিনি আরো বলেন, হিন্দু এলাকাতো তাই একটু কম।
বিদ্যালয়টির দুরাবস্থা এবং কম শিক্ষার্থী থাকার পরেও ৫ জন শিক্ষক কেন জানতে চাইলে ওই ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মাহাবুবুর রহমান বলেন প্রধান শিক্ষকের সাথে স্থানীয়দের দলাদলির কারনে শিক্ষার্থী কমে গেছে। তিনিও অকপটে স্বীকার করেন প্রকৃত পক্ষে ৭/৮ জন শিক্ষাথী আছে বিদ্যালয়টিতে। যেহেতু সকল শিক্ষার্থী উপবৃত্তি পায় সুতরাং ফাকি দেয়ার সুযোগ নেই। প্যানেলভুক্ত শিক্ষকদের বিভিন্ন স্কুলে পোস্টিং দেয়ার বিষয়টি উপর থেকে হয় বলে তার কিছু করার নেই।
কাজের প্রতি প্রধান শিক্ষকের অবহেলা এবং বিদ্যালয়টির দুরাবস্থার বিষয় কি ব্যবস্থা নিচ্ছেন জানতে চাইলে উপজেলা শিক্ষা অফিসার সালেহা খাতুন বলেন, উপজেলা শিক্ষা কমিটির সভায় প্রধান শিক্ষক বিজয়কে বদলীর সুপারিশ করা হয়েছে। বেশকটি সাবেক রেজিস্টার্ড স্কুলের মধ্যে স্থানীয় দলাদলি রয়েছে। সে কারনে অফিসের অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।
