কাউখালীতে গরু চুরির নতুন কৌশল : জবাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাংস
কাউখালী প্রতিনিধি :
গোয়ালেই গরু জবাই করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে মাংস। পিরোজপুরের কাউখালীতে গরু চুরির এ যেন নতুন কৌশল। কোথাও মাঠে চড়ানো গরুও নিয়ে যাচ্ছে চোরের দল। এছাড়া রাতে গোয়াল থেকে চুরি করার বিষয় তো আছেই। বর্তমানে এই চিত্র কাউখালী উপজেলার।
উপজেলায় হঠাৎ করে গরু চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের লোকজনের সাথে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে। গরু চুরির ঘটনায় তারা উদ্বিগ্ন।
জানা যায়, রবিবার রাতে উপজেলার পশ্চিম কাঠালিয়া গ্রামের বাদশা হাওলাদারের গোয়াল থেকে চোরের দল গাভী চুরি করে বাড়ির এক’শ গজ দুরে পাইটকরন এলাকায় গাভীটি জবাই করে মাংস নিয়ে যায় সংঘবদ্ধ গরু চোরের দল।
গরুর মালিক বাদশা জানান, এক মাস আগে তার গরুটি একটি বাচ্চা প্রসব করে। জবাই করে মাংস নিয়ে গেলেও রেখে গেছে মাথা ও চামড়া। গরুটির দাম প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা।
সোমবার দুপুরে কাউখালী থানার পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে।
একইভাবে গরু জবাই করে মাংস নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউনিয়নের কেশরতা গ্রামে গত ২৪ ফেব্রুয়ারী রাতে। গরুর মালিক কৃষক আলম জানান, শুক্রবার রাতে তিনি বসতঘর সংলগ্ন গোয়ালে দুটি গরুকে খাওয়ানোর পর পরিবারের সবাইকে নিয়ে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে উঠে গোয়ালে একটি গরু না দেখে পরিবারের লোকজন খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তারা দেখে, বাড়ির আধা কিলোমিটার দূরে একটি নির্জন বাগানে গাভিটি জবাই করা। গাভিটির পেট থেকে সামনের অংশ নিয়ে গেছে চোরেরা।
এলাকাবাসী জানান, দিনের বেলায়ও গরু চুরি হচ্ছে। বিভিন্ন সময় মাঠে-ঘাটে চড়া গরুও নিয়ে যাচ্ছে চোরের দল।
জানা যায়, বাজারে গরুর সংকট থাকায় দেশি জাতের গরুর দাম বেড়ে গেছে। ফলে মাংসের দামও বেড়েছে। তাই বেড়েছে গরু চুরির ঘটনা।
এলাকার মানুষের ধারণা, ভাসমান লোকজন গরু চুরির সাথে জড়িত থাকতে পারে। তাদের সহায়তা করছে মাংস বিক্রি করা কয়েকজন লোক।
এ ব্যাপারে কাউখালী থানার ওসি মোঃ মনিরুজ্জামান জানান, এলাকার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
