চিতলমারীতে ঘেরে বিষ প্রয়োগ : হুমকিতে চিংড়ি চাষ
প্রদীপ মন্ডল, চিতলমারী :
মাছের ভান্ডারখ্যাত বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন চাষিরা। প্রতিনিয়ত উপজেলার কোন না কোন এলাকায় ঘটছে বিশ প্রয়োগের ঘটনা। চিংড়ির দরপতন, পোনা ও খাবারের মূল্য বৃদ্ধিতে এমনিতেই চিংড়ি চাষে খরচের টাকা ঘরে তুলতে পারছেনা চাষি। এরপর বিশ প্রয়োগের ঘটনায় চাষিদের মরার উপর খাড়ার ঘা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ফলে এ অঞ্চলে চিংড়ি চাষ এখন হুমকিতে।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার সন্ধ্যায় উপজেলার পাটরপাড়া গ্রামের রবীন বসুর চিংড়ি ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এ সময় পার্শবর্তী ঘের মালিক টের পেয়ে গেলে সংঘবদ্ধ চোরেরা একটি মোবাইল ফোন, ১টি শার্ট, ৪টি প্লাষ্টিকের বস্তা, ও একজোড়া স্যান্ডেল রেখে পালিয়ে যায়। এ ব্যাপারে রবীন বসু বাদী হয়ে ৬ জনের নাম উল্লেখ করে ২ মার্চ চিতলমারী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ অভিযান চালিয়ে এক আসামীকে আটক করেছে।
চিংড়ি চাষিদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার বড়বাড়িয়া, কলাতলা, হিজলা, শিবপুর, চিতলমারী সদর, চরবানিয়ারী, সন্তোসপুরসহ সাত ইউনিয়নে প্রায় ৮ হাজার পরিবার চিংড়ি চাষের উপর নির্ভরশীল। প্রতিবছর কমবেশি বন্যা ও ঝড়ে এলাকায় চিংড়ি চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হন। এখানকার অধিকাংশ চাষি বিভিন্ন ব্যাংক, এনজিও, দাদন ব্যবাসায়ী ও সুদেকারবারিদের কাছ থেকে অধিক মুনাফায় টাকা এনে বেশি দামে মাছের পোনা ও ফিড ক্রয় করে চাষাবাদে ব্যয় করেন। কিন্তু চিংড়ি মৌসুমের শুরু থেকেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটেছে। চিতলমারী সদর ইউনিয়নের পাটরপাড়া গ্রামের মিলন বিশ্বাস, দানোখালী গ্রামের সঞ্জয় বসু, সুদেব বিশ্বাস, মনোজ বাড়ৈ, সঞ্জিত গোলদার, প্রফুল্ল বাইন, রাজু রায়, প্রমথ রায়, গৌতম ম-লের চিংড়ি ঘেরে বিশ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে।
চরবানিয়ারী ইউনিয়নের শ্যামপাড়া গ্রামের আনন্দ বৈরাগী, সুকুমার বৈরাগী, সঞ্জয় বৈরাগী, মৃনাল বালা, বিভাষ ম-ল, কামরুল ইসলাম সুমন, ব্রহ্মগাতী গ্রামের স্বপন হালদারের চিংড়ি ঘেরসহ বিভিন্ন ্এলাকায় বিষ প্রয়োগের ঘটনা ঘটে। এ বিষ প্রয়োগের কারণে এলাকার চিংড়ি চাষ এখন হুমকির মুখে পড়েছে।
এ ব্যাপারে চিতলমারী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ রেজাউল করিম জানান, পাটরপাড়ার ঘটনায় একজন আসামি আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তিনি আরো জনান, ঘেরে বিষ প্রয়োগের ঘটনা প্রতিরোধে চাষিদের চিংড়ি ঘেরে পাহারা বৃদ্ধির পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সেই সাথে তাদের সচেতনতা বাড়ানোর জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
