দখলের কবলে ভান্ডারিয়ায় জনগুরুত্বপূর্ণ দশআনি পুকুর
কন্ঠ রিপোর্ট :
পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্রে পূর্বে রিজার্ভ পুকুর, দশআনি পুকুর ও ছয়আনি পুকুর নামে তিনটি পুকুর ছিল। এক সময়ে এ তিনটি পুকুরই জনস্বার্থে ব্যবহৃত হত। কালের বিবর্তনে ছয়আনি পুকুরটি মজাপুকুর হওয়ায় সেটি থেকে ৮০’র দশকের মাঝামাঝি সময়ে কিছু জমি ৯৯ বছরের লিজ নিয়ে একটি সিনেমা হল তৈরী করা হয়। বাকী থাকে দশআনি আর রিজার্ভ পুকুর।
স্থানীয় প্রবীণ ও পুকুর সংলগ্ন আদি বাসিন্দাদের সাথে আলাপকালে তারা জানান, সম্প্রতি ভান্ডারিয়া সদর ইউনিয়নটি পৌরসভা হওয়ার পর গত বছরের শেষের দিকে পৌর শহরের প্রাণ কেন্দ্র রিজার্ভ পুকুরটি সংস্কারসহ সৌন্দর্য বর্ধনের কাজ করে জনসাধারনের ব্যবহার উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়। যার ফলে পুকুরটির আশ-পাশের মানুষের দৈনন্দিন ব্যবহার ছাড়াও পুকুর সংলগ্ন মসজিদে নামাজের জন্য মুসুল্লীরা ওজু করে নামাজ আদায় করে থাকে। এদিকে রিজার্ভ পুকুরের স্বল্প পশ্চিম দিকে রয়েছে দশআনি পুকুরটি। সে পুকুরটি ৯০’র দশকের দিকে একবার সংস্কার করা হলেও পরবর্তীতে অজ্ঞাত কারনে আর সংস্কার হয়নি। খোজঁ নিয়ে জানাগেছে, সেটি লিজ নিয়ে মাছ চাষ করলেও বছর কয়েক হয়েছে তাও আর হয়না।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পুকুরটির দক্ষিণ পশ্চিম দিকে একটি পাকা ভবন নির্মানের জন্য কয়েকজন দিন মজুর কাজ করছে। এ সময় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাংবাদিকদের জানান, কয়েকদিন আগে একটি গভীর নলকুপ স্থাপনের কাজ শেষ হয়েছে। আর এখন একটি পাকা ভবন নির্মানের জন্য মালিকের কাছে প্রতিদিনের হাজিরা নিয়ে দিন মজুরের কাজ করছে। বর্তমানে যে ভবন নির্মানের কাজ চলছে সেটি সংলগ্ন অপর একটি পাকা ভবনও ইতিমধ্যে নির্মান করা হয়েছে। জানাগেছে, স্থানীয় ভূমি অফিসকে ‘নয় ছয়’ বুঝিয়ে তাদের বৈধ দাবী করে পার্শ্ববর্তী রাজাপুর উপজেলার এক প্রবাসী নির্মান করে। সে ভবনটিরও প্রায় ১০ ফিট দশআনি পুকুরের সরকারি জমির মধ্যে রয়েছে। বর্তমানে যে ভবনটি নির্মানের প্রক্রিয়া চলে সেটি পুকুরের মধ্যে পড়ে কিনা এমন প্রশ্নে স্থানীয় আদি বাসিন্দারা কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি। কারন জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এই পুকুরে সাতার কেটে কৈশর কাটিয়েছে। পুকুরটির পূর্ব পাড়ে একটি কৃষ্ণচুড়া গাছ ছিল, একটি ঘাটলা ছিল, পূর্ব পার্শ্বে একটি তালগাছ, পশ্চিমে আম গাছ ছিল। সে গাছ থেকে আম পেড়ে খেতাম। বেল গাছের পাতা থেকে সংলগ্ন মন্দিরে পূজারী পুজা দিত। এখন সে সবই অতীত !! সংলগ্ন আবাসিক বাসা বাড়ির মহিলারা তাদের সংসারের দৈনন্দিন পানির কাজ এ পুকুরের পানি থেকেই করতো। এখন সে পুকুরটি কচুরিপানা, আর বাথরুমের ট্যাংকি হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জানাগেছে, ভান্ডারিয়া উপজেলা বাজরে বিগত কয়েক বছরে প্রায় ১৭ বার অগ্নিকান্ডে দমকল বাহিনী এই পুকুরের পানি থেকে আগুন নিয়ন্ত্রন করে থাকে। ভয়াবহ এক অগ্নিকান্ডের ঘটনায় ভান্ডারিয়াসহ রাজাপুর, কাঠালিয়া, মঠবাড়িয়া, পিরোজপুর, ঝালকাঠি এমনকি বরিশালের দমকল বাহিনী ছাড়াও ওই সময়ে মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু’র অনুরোধে তার চাচা ৯নং সাব সেক্টর কমান্ডার ও দুবলা ফিসারম্যান গ্রুপের চেয়ারম্যান মেজর (অবঃ) জিয়া উদ্দিন স্পিডবোর্ডে একটি পাম্পমেশিন নিয়ে এসে নিজেই পাইপ হাতে নিয়ে আগুন নেভানোর কাজ করায় সকলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় সেই ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের হাত থেকে ভান্ডারিয়া বাজারকে রক্ষা করা হয়।
জনশ্রুতি আছে এই পুকুর ভরাট করার জন্য একটি গ্রুপ কয়েকবার চেষ্টা চালালে মন্ত্রী অনোয়ার হোসেন মঞ্জু ভরাটের বিপক্ষে থাকায় সেটি সম্ভব হয়নি। তার পর থেকে পুকুরটির যে যেভাবে পারছে একটু একটু করে দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এই উপজেলার পূর্বের উপজেলা নির্বাহী অফিসার হরি প্রসাদ পাল পুকুরটির একটি বাউন্ডারি মাপ দিয়ে পিলার স্থাপন করেছিলেন। পরে তার পদন্নতিজনিত বদলির কারনে পুকুরটির সংস্কার স্থবির হরে পড়ে।
এদিকে পুকুরের কিছু অংশ দখলে নিয়ে বর্তমান যে ভবনটির কাজ চলে সে ভবনের মালিকের সাথে যোগাযোগের জন্য চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এ বিষয়ে ভান্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রুহুল কুদ্দুস এ প্রতিবেদককে সেল ফোনে বলেন, এ বিষয়ে আমাকে কেউ অবহিত করেনি। এই প্রথম শুনলাম। আমি এখনই সার্ভেয়ারকে ঘটনাস্থলে পাঠাচ্ছি।
