মঠবাড়িয়ায় অগ্নিকান্ডে কৃষকের বসতঘর পুড়ে ছাঁই

মঠবাড়িয়া প্রতিনিধি :
‘সর্বনাইশ্যা আগুন মোর হুদা ঘরই পোঁড়েনায় ! মাইয়ার বিয়ার টাহা-পয়সা ও মালামালসহ আইএ পরীক্ষার্থী পোলার বই-খাতাও পুঁইড়্যা ছাঁই অইয়া গ্যাছে। মুই এহোন কি হরমু ! কি খামু !’ এমনটাই বলতে বলতে বুক চাপড়ে মুর্ছা গেলেন আগুনে ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক রবিন মন্ডলের স্ত্রী প্রতিলতা মন্ডল (৪০)। আজ বুধবার সকালে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে সর্বস্ব হারিয়ে প্রতিলতা এখন বাকরুদ্ধ।
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় হারজী নলবুনীয়া গ্রামের কৃষক রবিন মন্ডলের বসতঘর ও মেয়ের বিয়ের জন্য ক্রয়কৃত মালামাল আগুনে পুড়ে ছাঁই হয়ে গেছে। বুধবার সকালে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিটের মাধ্যমে আগুনের সূত্রপাত হয়। মূহুর্তে মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা দ্রুত ছড়িয়ে পরে। আগুনে বসতঘরটি সম্পূর্ন পুড়ে গেছে। এতে আগামী ১০ মার্চ কলেজ পড়–য়া মেয়ে রণিতা মন্ডল (২০) এর বিয়ের জন্য ধার-দেনা করে সংগ্রহ করা ৪০ হাজার টাকা, ৪ ভরি স্বর্ণালঙ্কার, ২০ মন চাল, ১৫ মন ধানসহ অন্যান্য মালামাল ভস্মীভুত হয়। ওই আগুনে একই বাড়ির সহোদর কৃষক রমেশ মন্ডলের বসতঘরের আংশিক পুড়ে যায়। এতে আনুমানিক ৭ লাখ টাকার ক্ষয়-ক্ষতি হয়েছে বলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক পরিবার দাবী করেছেন।

স্থানীয়দের সূত্রে জানাগেছে, উপজেলার হারজী নলবুনীয়া গ্রামের কৃষক রবিন মন্ডল বুধবার সকাল ৮ টার দিকে স্ত্রীকে নিয়ে কৃষি জমিতে কাজে যান। কিছুক্ষণ পর স্থানীয় মিরুখালী কলেজ পড়–য়া তার দুই সন্তান রণিতা মন্ডল ও সৌখিন মন্ডল ঘর তালাবদ্ধ করে কলেজে যায়। সকাল সাড়ে ৮ টার দিকে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে মুহুর্তে ঘরটি পুড়ে যায়। স্থানীয়রা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভাতে ব্যর্থ হন।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক রবিন মন্ডল বলেন, ‘আগামী ১০ মার্চ আমার কলেজ পড়–য়া মেয়ে রণিতা মন্ডলের বিয়ে। এজন্য কেনাকাটা ও প্রস্তুতি প্রায় শেষ। আগুনে আমাকে সম্পূর্ণ নিঃস্ব করে দিয়েছে। এখন কিভাবে মেয়ের বিয়ে দেব, কোথায় থাকবো, কি খাবো ?’
স্থানীয় নারী ইউপি সদস্য কবুতর বেগম বলেন, ওই কৃষকের সর্বস্ব পুড়ে ছাঁই হয়েছে। তার মেয়ের বিয়ে সামনে এমন সময় আগুনে পরিবারটি স্বপ্ন পুড়ে ছাঁই হল।
মঠবাড়িয়া ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন কর্মকর্তা আব্দুল হক জানান, ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই ঘরটি সম্পূর্ণ ভস্মীভুত হয়।
